গুজরাটের কারাগার থেকে গ্যাংস্টার বিষ্ণোইকে কেন নিতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। মুম্বাইয়ে গত তিন বছরে অন্তত চারটি বড় অপরাধের ঘটনায় বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশের কারণে গুজরাটের আহমেদাবাদে অবস্থিত সাবরমতী কারাগার থেকে তাঁকে অন্যত্র নেওয়া যাচ্ছে না।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ২০২৩ সালের আগস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ২৬৮ ধারায় বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে সরানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তী সময়ে নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩০৩ ধারার আওতায়ও এই সুরক্ষা বহাল রাখা হয়। সরকারের যুক্তি, বিষ্ণোইকে স্থানান্তরের সময় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া ও সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে।
এই নির্দেশের ফলে আদালতের প্রচলিত প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কিংবা অন্য সংস্থার হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন কার্যকর করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিয়ে ভিডিও মাধ্যমে অথবা কারাগারের ভেতরে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
ভারতে প্রভাবশালী অপরাধীদের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নতুন নয়। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত আনার পর আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ছোটা রাজনকেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে দিল্লির তিহার কারাগারে রাখা হয়। রাজনের দাবি ছিল, মুম্বাই পুলিশের কিছু কর্মকর্তা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাউদ ইব্রাহিমের পক্ষে কাজ করতেন এবং মুম্বাইয়ে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে। বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই আনমোলও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসার পর তিহার কারাগারে একই ধরনের সুরক্ষা পেয়েছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। একই বছরের অক্টোবরে এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডেও বিষ্ণোইকে অভিযুক্ত করে পুলিশ। পরে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির কাছেও চাঁদাবাজির হুমকি দেয় তাঁর গ্যাং।
সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকার করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলাকারীদের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের সহযোগী অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগ ছিল।
গ্যাংটির দাবি, সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই টাইগারসহ কয়েকজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় সালমানের কথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গ্যাংটি।
মুম্বাই পুলিশের একাংশের মতে, অপরাধের নেপথ্যের তথ্য জানতে বিষ্ণোইকে সরাসরি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালও দাবি করেছেন, বিষ্ণোইকে দেওয়া বিএনএসএসের সুরক্ষা প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।









