বাসায় গিয়ে অভিজিৎকে সতর্ক করল পুলিশ, ‘তেরঙ্গা মিছিলে’ অনড় ককরোচরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রস্তাবিত ‘তেরঙ্গা মিছিল’ বাতিল করতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় এই প্রতিবাদ মিছিলের সূচি রয়েছে। যন্তর মন্তরে ঢুকে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অভিযোগে দলটির দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার এবং কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
দিল্লি পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে কনট প্লেস ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তা সত্ত্বেও অভিজিৎ দীপকে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশ ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল (ডি-নোটিফাই) ঘোষণা করে।
বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে দিল্লির রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সমালোচকদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, সংসদ ভবন ও সুপ্রিম কোর্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে গণবিক্ষোভ দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।
আজ করোল বাগে এনসিপি (এসপি) নেতার বাসভবনে অবস্থানরত অভিজিৎ দীপকেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা নোটিশটি হস্তান্তর করেন। নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মিছিল বাতিলের আরজি প্রত্যাখ্যান করেছেন সিজেপি প্রধান।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা যদি ১০০টি জায়গায় বিক্ষোভের ঘোষণা দিই, তবে কি নরেন্দ্র মোদি ১০০টি স্থানই বন্ধ করে দেবেন? জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিয়ে দিল্লি পুলিশের সমস্যা কোথায়?’
অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, ‘আজ রাতে বা আগামীকাল সকালে দিল্লি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তবে আমরা তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট স্থানে যথাযথ নিয়ম মেনে স্বল্প সংখ্যক মানুষকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে সংসদ মার্গ, জনপথ, বারাকাম্বা রোড, কস্তুরবা গান্ধী মার্গ, তিলক মার্গ, মান্ডি হাউস এবং অশোক রোডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশের যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পেশ করা আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।









