শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে দিল্লি পুলিশ ছত্রশাল স্টেডিয়ামের ভেতরে পুলিশ সদস্য ও যানবাহন মোতায়েন করেছে; পাশাপাশি সেখানে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্যদেরও ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সোফিয়া ম্যাথিউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভের জন্য যেসব আটক কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, তার মধ্যে ছত্রশাল স্টেডিয়াম অন্যতম।
যন্তর মন্তরে সিজেপি-র পরিকল্পিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে সংগঠনের নেতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর আলোক সিং-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপি নেতা সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দিল্লি কর্তৃপক্ষ ধৌলা কুয়ানের কাছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরসহ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাচ্ছিলেন। আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাক্ষী চাঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আসা জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে গুরগাঁওয়ে আটক করা হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।
পিটিআই-এর পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, শনিবার যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র পরিকল্পিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে অবস্থিত তাঁর বাসভবন থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সিজেপি-র এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রাঠীও অন্যতম।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়মকানুনের কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। বিক্ষোভকারীরা যাতে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ধরপাকড় বাড়িয়েছে এবং কৌশলগত স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করেছে। নয়াদিল্লি এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার ভোর থেকেই দিল্লি পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ (টহল) চালিয়েছে, শহরের প্রবেশমুখগুলোতে যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করেছে এবং শহরের প্রধান প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও, দিল্লিতে প্রবেশকারী যাত্রীবাহী বাসে ব্যাপক তল্লাশি করা হচ্ছে।
সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করা অন্তত ১০০ জনকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ কনট প্লেস এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ চালায় এবং অন্তত ১০০ জনকে আটক করে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজধানীজুড়ে ৩৫ হাজারেরও বেশি দিল্লি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), ইউনিফর্মে লাগানো বডি ক্যামেরা এবং বিশেষ নারী বাহিনী ‘পিঙ্ক ফোর্স’-কে কাজে লাগানো হয়েছে; পাশাপাশি দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, রাজধানীতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

জন্তর মন্তরে সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার পথে অভিজিৎ দীপকে সরকারের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
দীপকে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর এই ‘ব্যাপক দমন-পীড়ন’ আসলে এমন এক নেতার লক্ষণ যিনি ‘নিজের দেশের মানুষকেই ভয় পাচ্ছেন’।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবাদ শুরু হওয়ার আগেই মোদী পরাজয় মেনে নিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন এবং দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা—এসব কোনো শক্তির পরিচয় নয়, বরং নিজের দেশের মানুষের কাছে ভীত এক নেতার লক্ষণ।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার ককরোচ জনতা পার্টি-অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন'-এর ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে রাজধানীজুড়ে রাতভর অন্তত ১ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-কে জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জনই দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব জেলার—বিশেষ করে শাহিন বাগ ও তার আশেপাশের এলাকার—বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই শাহিন বাগ।
দিল্লি পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি শাহদারা ও পূর্ব দিল্লি জেলার বাসিন্দা; এই এলাকাগুলো উত্তর প্রদেশের সীমান্তবর্তী।