হ্যারিকে নিয়ে কী ছিল ডায়ানার উদ্বেগ—প্রকাশ পেতে পারে নতুন প্রামাণ্যচিত্রে

বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবেন প্রিন্স হ্যারি—এমন আশঙ্কা ছিল মা প্রিন্সেস ডায়ানার। ১৯৯১ সালে গোপনে ধারণ করা ডায়ানার পাঁচ ঘণ্টার অডিও রেকর্ডিংয়ের অপ্রকাশিত অংশ নিয়ে নির্মিত নতুন তিন পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘ডায়ানা আনহার্ড’-এ উঠে আসতে পারে দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সেই উদ্বেগের কথা।
প্রয়াত প্রিন্সেস অব ওয়েলসের বন্ধু চিকিৎসক জেমস কোলথার্স্টের সঙ্গে কথোপকথনের এসব রেকর্ডিং ব্যবহার করা হয়েছিল অ্যান্ড্রু মর্টনের ১৯৯২ সালের জীবনীগ্রন্থ ‘ডায়ানা: হার ট্রু স্টোরি’-তে। নতুন প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতারা ডায়ানার জীবনের প্রচলিত বয়ানের বাইরে গিয়ে তাঁর নিজের কণ্ঠে তাঁর গল্প তুলে ধরতে চান। আগামী বছর ডায়ানার মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্তি সামনে রেখে সিরিজটি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজপরিবারবিষয়ক লেখক ক্রিস্টোফার অ্যান্ডারসনের মতে, ডায়ানা বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যৎ রাজা হিসেবে উইলিয়ামের দায়িত্ব ও অবস্থান একসময় তাঁকে তাঁর ভাই হ্যারির চেয়ে অনেকটাই আলাদা করে তুলবে। এতে হ্যারি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন বলেও আশঙ্কা করতেন তিনি।
অ্যান্ডারসন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ডায়ানা ভয় পেতেন, ভাইয়ের ছায়ায় থাকতে থাকতে হ্যারি যেন একসময় ম্লান হয়ে না যান। তাঁর ভাষায়, উইলিয়াম ছোটবেলা থেকেই মায়ের উদ্বেগ বুঝতেন এবং ভাইয়ের অনুভূতিতে আঘাত না লাগার বিষয়ে সতর্ক থাকতেন।
মর্টনের জীবনী অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্যারিসের হোটেল থেকে ১৫ বছর বয়সী উইলিয়ামের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ডায়ানা। সে সময় উইলিয়াম তাঁকে জানান, ইটন কলেজে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু উপলক্ষে তাঁকে একক ফটোসেশনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। এতে ১২ বছর বয়সী হ্যারি নিজেকে উপেক্ষিত মনে করতে পারে—এমন উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন উইলিয়াম।
অ্যান্ডারসনের মতে, ডায়ানা উইলিয়ামকে বিচক্ষণ, সংবেদনশীল ও বয়সের তুলনায় পরিণত মনে করতেন। ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনে উইলিয়াম সক্ষম হবেন, এই বিষয়ে তাঁর আস্থা ছিল। কিন্তু হ্যারির ক্ষেত্রে উদ্বেগ ছিল ভিন্ন। সবার চোখে হ্যারি ছিলেন প্রাণবন্ত ও দুষ্টুমিপ্রিয়; তবে ডায়ানা জানতেন, বড় ভাইয়ের সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা তাঁকে গভীর আত্মবিশ্বাসের সংকটে ফেলতে পারে।
তবে দুই ছেলের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ডায়ানার আশা ছিল, তাঁরা সব প্রতিকূলতা একসঙ্গে সামলে নেবেন।
‘ডায়ানা আনহার্ড’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লাভ মানডে টিভির সৃজনশীল পরিচালক কেরেন বেয়ারফিল্ড বলেন, গণমাধ্যমে ডায়ানাকে প্রায়ই বিষণ্ন, নিঃসঙ্গ ও অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু রেকর্ডিংগুলোতে উঠে এসেছে সাহসী, আত্মসচেতন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে সক্ষম এক নারীর চিত্র।
এদিকে ডায়ানার দুই ছেলের সম্পর্ক নিয়ে সেই আশা এখনো পূরণ হয়নি। ২০২০ সালে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। এরপর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, প্রামাণ্যচিত্র ও হ্যারির স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’-এ রাজপরিবার নিয়ে তাঁদের বক্তব্য দুই ভাইয়ের দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।
২০২৩ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় হ্যারি ২০১৯ সালে উইলিয়ামের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষের অভিযোগও তোলেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দুই ভাইয়ের সম্পর্ক শিগগির স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন প্রামাণ্যচিত্রে ডায়ানার মাতৃত্ব, দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন এবং রাজপরিবারের ভেতরে তাঁদের ভিন্ন অবস্থান নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।









