
পরিচয় গোপনের শর্ত লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত হাজারো নথি নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রকাশিত নথিতে ত্রুটিপূর্ণ সম্পাদনার (রিডাকশন) কারণে তাঁদের পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা দাবি করেন, গত শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসে ‘রিডাকশন’ বা তথ্য গোপনের প্রক্রিয়া ঠিকমতো না হওয়ায় প্রায় ১০০ জনের বেশি ভুক্তভোগীর জীবন ‘ওলটপালট’ হয়ে গেছে। তাঁরা আরও বলেন, প্রকাশিত নথিতে এমন ই-মেইল ঠিকানা ও আপত্তিকর ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল।
এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা এই ঘটনাকে ‘চরম আপত্তিকর’ অভিহিত করে জানান, এভাবে তাঁদের নাম প্রকাশ, যাচাই-বাছাই এবং নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার মুখে ফেলা উচিত হয়নি।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যেসব নথি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুলগুলো ‘প্রযুক্তিগত’ বা ‘মনুষ্য’ ত্রুটির কারণে হয়েছে বলে দাবি তাদের। সোমবার ফেডারেল বিচারকের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে বিভাগটি জানায়, ভুক্তভোগী বা তাঁদের আইনজীবীদের অনুরোধে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চিহ্নিত সব নথি পরবর্তী সংশোধনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভাগটি আরও জানায়, নতুন অনুরোধগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আর কোনো নথি সরানো বা সম্পাদনার প্রয়োজন আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে শনাক্ত করা ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ নথিও সরানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর বিচার বিভাগ এই নথিগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য ছিল। তবে শর্ত ছিল যে, ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা যায়—এমন সব তথ্য অবশ্যই মুছে ফেলতে বা ঢেকে দিতে (Redact) হবে।
শুক্রবার ভুক্তভোগীদের পক্ষে দুই আইনজীবী নিউইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে ওয়েবসাইটটি বন্ধের আবেদন জানান। তাঁরা বলেন, এটি এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তার সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন।
দুই আইনজীবী ব্রিটানি হেন্ডারসন ও ব্র্যাড এডওয়ার্ডস জানান, বিচার বিভাগ হাজার হাজার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য মুছতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ‘জরুরি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যা তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ দাবি করে।
বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ওই চিঠিতে নিজস্ব মন্তব্য দিয়েছেন। একজন একে ‘জীবননাশী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরেক জানান, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ফাঁস হওয়ায় তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী অ্যানি ফারমার বলেন, ‘বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের পরিচয় যেভাবে উন্মুক্ত করে দিয়ে ক্ষতি করেছে, তাতে এই নথির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা নতুন তথ্যের ওপর নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস বলেন, প্রকাশের ফলাফল নিয়ে অনেকেই ‘খুবই অসন্তুষ্ট’। বিচার বিভাগ আমাদের তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করেছে—এক, অনেক নথিই এখনো প্রকাশ হয়নি। দুই, প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। তিন, ডিওজে বহু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমাদের সঙ্গে গেম খেলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা লড়াই থামাব না।’
এপস্টেইনের বহু ভুক্তভোগীর পক্ষে লড়েছেন নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। তিনি বিবিসিকে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নামের ওপর কেবল একটি দাগ টেনে দেওয়া হয়েছে যা থেকে সহজেই নাম পড়া যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমন সব ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যাঁরা কখনো প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দেননি, কখনো নামও প্রকাশ করেননি। ”
ডিওজের এক মুখপাত্র বলেন, তারা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। নির্দোষদের রক্ষায় প্রকাশিত লাখো পাতার মধ্যে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর নাম সরানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানে বিভাগটি ‘দিনরাত কাজ করছে’। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত পাতার মাত্র ‘০.১ শতাংশে’ এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে পারে।
গত বছর আইন করে নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ লাখ পাতা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও, যার একটি বড় অংশ গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়।
বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারা কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সময় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইউক্রেনজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঠিক এমন দুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
১ ঘণ্টা আগে
ঘুমানোর ভান করে উড়োজাহাজে নারী সহযাত্রীর গায়ে বারবার হাত রাখছিলেন ভারতীয় এক যাত্রী। তারপর যৌন হয়রানির অভিযোগে যেতে হলো আদালতে। যুক্তরাষ্ট্রের এক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এ ঘটনায় ঘটেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
রাজস্থানের আজমিরে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ও ফিলিস্তিনের পক্ষে স্টিকার লাগানোর ঘটনায় এক ব্রিটিশ যুগলকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখে গোয়েন্দা বিভাগ জেলা পুলিশকে সতর্ক করে। এরপর দুই ব্রিটিশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও আজ বুধবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এমনকি মধ্য গাজায় ব্যাপক হারে গোলা বর্ষণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে রাফাহ ক্রসিং চালু করার কথা থাকলেও ইসরায়েল সেই ক্রসিংও বন্ধ করে দিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে