Ajker Patrika

উত্তর কোরিয়ার নতুন রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা, ব্যবহৃত হবে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
উত্তর কোরিয়ার নতুন রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা, ব্যবহৃত হবে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে
নতুন রকেট ইঞ্জিন ও ট্যাঙ্ক পরিদর্শন করেন কিম জং উন। ছবি: কেসিএনএ

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্প্রতি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড-ফুয়েল রকেট ইঞ্জিনের একটি সফল স্থল পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছেন। কার্বন-ফাইবার উপকরণের সাহায্যে তৈরি এই ইঞ্জিনটি দেশটির কৌশলগত আঘাত হানার ক্ষমতাকে আমূল বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কেসিএনএ জানায়, নতুন এই সলিড-ফুয়েল ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ থ্রাস্ট ক্ষমতা ২ হাজার ৫০০ কিলোনিউটন। কিম জং উন এই পরীক্ষাকে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত বাহিনীকে আধুনিকায়নের পথে একটি বিশাল অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সলিড-ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তরল জ্বালানির তুলনায় অনেক দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়া বা ধ্বংস করা অনেক বেশি কঠিন। এটি মূলত দেশটির নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।

কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) জন্য একটি উচ্চ-থ্রাস্ট সম্পন্ন কঠিন-জ্বালানি ইঞ্জিনের পরীক্ষা তদারকি করেছেন কিম। ইঞ্জিনটির পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট উৎপন্ন হয়েছে, যা গত সেপ্টেম্বরে একই ধরনের পরীক্ষায় রেকর্ড করা ১ হাজার ৯৭১ কিলোনিউটন থেকে বেশি।

রকেট ইঞ্জিনের পাশাপাশি কিম জং উন দেশটির নতুন একটি মেইন ব্যাটল ট্যাংকের কার্যকারিতা পরিদর্শন করেন। এই ট্যাংকটির বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় সব ধরনের ট্যাংক-বিধ্বংসী অস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। কিম দাবি করেছেন, এই ট্যাংকটি বিশ্বমঞ্চে অতুলনীয় এবং এটি আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে উত্তর কোরিয়ার আধিপত্য বজায় রাখবে।

একই সঙ্গে তিনি স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শান্তিকালীন নিবিড় প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক যুদ্ধের রূপরেখা অনুযায়ী বিশেষ ইউনিটগুলোকে নতুন করে সাজানো হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্রের আধুনিকায়ন চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ংয়ের এই সামরিক প্রদর্শনীর লক্ষ্য হলো তাদের বাহিনীকে সর্বাধুনিক যুদ্ধের উপযোগী করে তোলা। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসে কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে , তারা উত্তর কোরিয়ার এই অস্ত্র উন্নয়নের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বৈশ্বিক যুদ্ধগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের সামরিক লক্ষ্য এবং স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ

বিসিএসে নিয়োগের সব ধাপ হবে সফটওয়্যারে

প্রকাশ্যে আইসক্রিম বিক্রেতার শিরশ্ছেদ, মুণ্ডু বাড়িতে নিয়ে গেলেন খুনি

বেরোবিতে ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ঢাবি ছাত্র, থানায় নিয়ে মুচলেকা

জোড়া লাল কার্ডের ম্যাচে ভারতকে রুখে দিল বাংলাদেশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত