জীবমাত্রই মরণশীল। মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তারপর তোমাদের সকলকে আমারই কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭) মুমিন ব্যক্তি সব সময় মৃত্যুর কথা স্মরণে রাখে।
কখনো এ ব্যাপারে উদাসীন হয় না। সে মৃত্যু এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। নবী (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তিন প্রকার আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. যে জ্ঞানে মানুষ উপকৃত হয় এবং তিন. নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (মুসলিম)
যারা মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে না, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাদের মোহভঙ্গ হয়। তখন আর কোনো উপায় থাকে না। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘পরিশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে পুনরায় পাঠান। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি আগে করিনি। কখনো না। এটি একটি কথার কথা, যা সে মুখে বলছে মাত্র! তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থিত করার দিন পর্যন্ত।’ (সুরা মুমিনুন: ৯৯-১০০)
মৃত্যুর ব্যাপারে উদাসীনতা আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে ধাবিত করে। বিভিন্ন পাপকর্মে লিপ্ত করে। হৃদয় কঠোর করে। দুনিয়ার মোহে নিমজ্জিত করে। পক্ষান্তরে মৃত্যুর স্মরণ পাপকাজ থেকে বিরত রাখে। কঠোর হৃদয়কে কোমল করে। আল্লাহর অনুগত বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য দান করে। পৃথিবীর মিছে চাকচিক্যের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। ফলে ভালোভাবে আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা বেশি পরিমাণে জীবনের স্বাদ বিনাশকারী বস্তু তথা মৃত্যুর কথা স্মরণ করো।’ (তিরমিজি)
লেখক: শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক










