গড় দৈর্ঘ্য ১৩ সেন্টিমিটার। মাথা, ঠোঁট, ঘাড়, কোমর ও পেট কমলা রঙের। পিঠ ও ডানা নীলচে কালো আর লেজ বেগুনি রঙের। অদ্ভুত সুন্দর ছোট এই পাখির নাম উদয়ী বামনরাঙা বা উদয়ী বামন মাছরাঙা।
বাংলাদেশে থাকা ১২ প্রজাতির মাছরাঙার মধ্যে উদয়ী বামনরাঙা আকারে সবচেয়ে ছোট। মাঝারি আকৃতির হামিংবার্ডের চেয়ে আকারে কিঞ্চিৎ বড়। ঠোঁট থেকে লেজ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার। স্ত্রী পাখির ওজন সাধারণত ১৪ থেকে ১৬ গ্রাম এবং পুরুষ পাখির ওজন ১৪ থেকে ২১ গ্রাম। নারী ও পুরুষ পাখির কপালে কালো দাগ থাকে। এদের ঘাড়ের পাশে সাদা ও নীল দাগ এবং গাঢ় নীল পিঠ ও ডানা থাকে। এর ইংরেজি নাম ওরিয়েন্টাল ডোয়ার্ফ কিংফিশার এবং বৈজ্ঞানিক নাম সিএক্স এরিথিকা।
বর্তমানে এই পাখির দেখা মেলে খুবই কম। তবে সম্প্রতি বিরল প্রজাতির এই মাছরাঙার দেখা পাওয়া যায় কুলাউড়ার আদমপুর জঙ্গলের দুর্গম এলাকায়। সেখানে এদের একটি পরিবারের খোঁজ পান বাংলাদেশের বৃহত্তম ফটোগ্রাফি গ্রুপের অ্যাডমিন এবং দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. এস এস আল-আমিন সুমন।
ডা. এস এস আল-আমিন সুমন জানান, ‘এমন একটি মাছরাঙা পরিবার রয়েছে আদমপুর জঙ্গলের দুর্গম এলাকায়, খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যাই। অদ্ভুত সুন্দর এই পাখির ছবি সংগ্রহ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’
পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, উদয়ী বামনরাঙার বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। প্রজাতিটি বিশ্বে বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত।
এদের প্রধান খাবার ছোট মাছ, কাঁকড়া, ঝিঁঝিপোকাসহ অন্যান্য পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। নদীর খাড়া পাড়ে নিজেরা টানেল আকৃতির সুড়ঙ্গ বানিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩ থেকে ৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৭ থেকে ১৮ দিন।










