Ajker Patrika

এসে গেছেন ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ২.০’

সাহিদ রহমান অরিন, ঢাকা
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২: ১২
এসে গেছেন ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ২.০’

‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান’—কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতা কখনো পড়ার কথা নয় এবি ডি ভিলিয়ার্সের। কিন্তু এমন এক বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে কি তাঁর?

২০১৮ সালে হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়া ডি ভিলিয়ার্স গত বছরের নভেম্বরে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন। ঠিক এর আগের মাসেই পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন এবিডির এক উত্তরসূরি। নাম তাঁর ডিওয়াল্ড ব্রেভিস—১৮ বয়সী এই ক্রিকেটার ডি ভিলিয়ার্সকে শুধু অনুসরণ নয়; হুবহু অনুকরণ করেন।

জোহানেসবার্গে জন্ম নেওয়া ব্রেভিস গত অক্টোবরে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আয়োজিত প্রাদেশিক টি-২০ নকআউট টুর্নামেন্টের অভিষেকে ২৫ বলে ৪৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ইনিংসে দুটি চার ও চারটি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি, যার সব কটি ছিল ডি ভিলিয়ার্সের শটের হুবহু নকল। সেই ইনিংসের আগে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ক্রিজ থেকে দুই কদম বেরিয়ে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ব্রেভিসের বিশাল ছক্কার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুগ্ধতার ঝড় তোলে। তাঁর ল্যাপ শট, স্কুপ, সুইচ হিট, রিভার্স সুইপ দেখলে মনে হবে শিল্পীর রং-তুলিতে আঁকা ডি ভিলিয়ার্সেরই নতুন কোনো আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

প্রোটিয়া ক্রিকেটে ব্রেভিস তাই দ্রুতই পরিচিতি পান ‘বেবি এবি’, ‘ক্লোন অব এবিডি’, ‘ডি ভিলিয়ার্স কার্বন কপি’, ‘নিউ মিস্টার ৩৬০°’, ‘এবি ২.০’ ইত্যাদি নামে। সেই পরিচিতি এখন বিশ্বময় হয়েছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুবাদে। ভবিষ্যৎ তারকা তৈরির সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রায় সব আলো একাই কেড়ে নিয়েছেন ব্রেভিস। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামার আগে এই তরুণই ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, সর্বাধিক ছক্কা, সবচেয়ে বেশি ফিফটি ও আউট হওয়া ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গড়ের মালিক।

ডি ভিলিয়ার্সকে কেন ‘হুবহু নকল’ করতে গেলেন ব্রেভিস? গল্পটা বেশ রোমাঞ্চকর। দুজনই যে একই স্কুলের শিক্ষার্থী! প্রিটোরিয়ার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ আফ্রিকানসে হোর সুনস্কুলের গর্বিত অ্যালামনাই তাঁরা। স্কুলেই ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে প্রথম দেখা ব্রেভিসের। গল্পটা তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ‘স্কুলে ডি ভিলিয়ার্স আসছেন শুনেই ছুটে যাই। শ্রেণিকক্ষে এসে তিনি তাঁর জীবনের বাঁকবদলের গল্প শোনান। চলে যাওয়ার সময় আমি সাহস করে তাঁর কাছে গিয়ে ফোন নম্বর চাই। তিনি আমাকে নম্বর দেন।’

এরপর থেকে সুযোগ পেলেই ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন ব্রেভিস। গত দুই বছরে এবিই ব্রেভিসকে শাণিত করেছেন, গড়ে তুলেছেন নিজের মতো করে। টেকনিক নিয়ে সমস্যায় পড়লেই ডি ভিলিয়ার্সের শরণ নিতেন ব্রেভিস। এবি বলছেন, ‘ও যেমন আমার ভক্ত, আমিও ওর। দুই বছর ধরে আমি ওর সঙ্গে কাজ করছি। ওর ব্যাটিং ও ক্রিকেটীয় মনোভাবে পরিবর্তন এনে দিয়েছি। ইনডোর নেটে অনেক সেশন কাটিয়েছি।’

ডি ভিলিয়ার্স ছিলেন কিপার-ব্যাটার। ব্রেভিস কিপিংয়ে না ঝুঁকলেও লেগ স্পিনটা বেশ ভালোই করেন। যুব বিশ্বকাপে ৭ উইকেটও নিয়েছেন তিনি। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে ব্রেভিস জানিয়ে গেছেন তাঁর স্বপ্নের কথাও, ‘আমার প্রথম স্বপ্ন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের হয়ে খেলা। টি-২০ প্রতিযোগিতাগুলোতেও খেলতে চাই।’

ব্রেভিসের স্বপ্ন শিগগিরই সত্যি হতেও পারে। আইপিএলের মেগা নিলামে নাম আছে তাঁরও। ডি ভিলিয়ার্সের আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তাঁর মতোই একজনকে খুঁজছে। ব্রেভিসকে বেশ মনেও ধরেছে তাদের। এখন ডি ভিলিয়ার্সের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ব্রেভিস কতটা পথ হাঁটতে পারেন, সেটাই দেখার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত