Ajker Patrika

ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, তবে নেই শীর্ষ দশে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, তবে নেই শীর্ষ দশে
ফাইল ছবি

বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ ১৬ নম্বরে নেমে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ুমান সূচকে (একিউআই) ঢাকার পয়েন্ট সকাল সাড়ে ১০টায় ছিল ১৫১। বায়ুমানের এই স্তরকে পরিবেশবিদদের ভাষায় ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্বজুড়ে বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইকিউএয়ারের ওয়েবসাইটে তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বায়ুদূষণের শীর্ষ তালিকায় ৩৯৮ স্কোর নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ২২৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ভারতের দিল্লি এবং ১৭৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের অপর শহর মুম্বাই।

তালিকায় ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকা শহরগুলোর বাতাস সবার জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এই তালিকায় ১৫১ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ১৬ নম্বরে। তালিকার ১৫ নম্বরে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ (১৫২) এবং ঠিক ওপরে ১৪ নম্বরে রয়েছে উজবেকিস্তানের তাশখন্দ (১৫৩)।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসের মান ১৫০ এর ওপরে উঠলেই তা সাধারণ মানুষের শ্বাসযন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারের পরম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে শীত বা শুষ্ক মৌসুম শুরুর সাথে সাথে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী। দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ। বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত