তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সুরিয়া শুধু রুপালি পর্দার হিরো নন, বাস্তবজীবনেও তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম। কয়েক দশক ধরে বাবা শিবকুমারের ‘শিবকুমার এডুকেশনাল ট্রাস্ট’ এবং নিজের ‘আগারাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে নিরলস দাতব্য কাজ করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে তাঁদের জীবনে আলো ছড়াচ্ছে সুরিয়ার পরিবার।
দীর্ঘদিনের এই দাতব্য কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শিবকুমার এডুকেশনাল ট্রাস্টের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন সুরিয়া। সেখানে শিক্ষার্থীদের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি কথা বলেছেন বর্তমান প্রজন্মের অতিরিক্ত ইনস্টাগ্রাম রিলস দেখার প্রবণতা নিয়ে।
রিলস দেখার পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে শিক্ষার্থীদের পডকাস্ট দেখার পরামর্শ দিয়েছেন সুরিয়া। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি সারাক্ষণ রিলস দেখতে থাকেন, তবে শুধু একটি গল্পই দেখছেন। এখান থেকে হয়তো আপনার কিছুই শেখা হবে না।’ এর বদলে তিনি সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্পগুলো বিস্তারিতভাবে জানতে দীর্ঘ পডকাস্ট দেখার প্রতি উৎসাহ দেন।
জীবনকে চলচ্চিত্র নির্মাণপ্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করে সুরিয়া বলেন, ‘সিনেমার সেটে পরিচালক কখনোই বলেন না যে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন; বরং তিনি বলেন আরেকবার টেক দিতে। আমি জীবনকে একজন পরিচালকের চোখ দিয়ে দেখি। কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়ার পর সেখানেই জীবন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না, সব সময় ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি সুযোগ থাকে। তাই সাফল্য না আসা পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
নিজের উদাহরণ টেনে সুরিয়া জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি অভিনয়ে খুব একটা দক্ষ ছিলেন না। কিন্তু ৩০ বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করা এবং নিজেকে উন্নত করার নিরলস চেষ্টা তাঁকে আজকের তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শিক্ষাও দিয়েছেন সুরিয়া। তাঁর আহ্বান, সাফল্যের পেছনে যাঁদের সামান্যতম অবদানও রয়েছে, তাঁদের প্রতি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রত্যেকের উচিত অন্তত একজন মানুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা। শিবকুমার এডুকেশনাল ট্রাস্টের মাধ্যমে সুরিয়া ও তাঁর বাবা ঠিক এ কাজই করছেন। ওই অনুষ্ঠানে তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ১৩ লাখ ৭৮ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তা দেন।
উল্লেখ্য, সুরিয়ার এই শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসক এবং ১ হাজার ৮০০ জন প্রকৌশলী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর ফাউন্ডেশন থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগ নিজ পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরোতে পেরেছেন।










