Ajker Patrika

নিউ জিনসের চুক্তি ঘিরে বিতর্ক

বিনোদন ডেস্ক
নিউ জিনসের চুক্তি ঘিরে বিতর্ক
নিউ জিনস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন পাঁচ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় কে-পপ গার্লস গ্রুপ নিউ জিনসের চুক্তি নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সে ব্যান্ডের সদস্যদের এমন এক চুক্তিতে সই করানো হয়েছিল, যেখানে শিশু সুরক্ষার সাধারণ নিয়মগুলো মানা হয়নি। উল্টো চুক্তির মেয়াদ শেষেও শিল্পীদের ওপর এজেন্সির নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক ছড়িয়েছে কে-পপ ইন্ডাস্ট্রিতে।

চুক্তির বিতর্কিত শর্তগুলো

দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ‘কে-পপ চুক্তি টেমপ্লেট’-এ অপ্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা রয়েছে। তবে নিউ জিনসের চুক্তিতে এগুলো ছিল না। এমনকি অতিরিক্ত খোলামেলা পোশাক পরা কিংবা মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলোও এড়িয়ে যাওয়া হয়।

চুক্তিতে সদস্যদের ‘অবহেলার মনোভাব’ এবং ‘অনুপযুক্ত প্রেমের সম্পর্কে’ জড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই সঙ্গে কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়—সত্য বা মিথ্যা, এমন যেকোনো মন্তব্য করার ওপরও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি কে-পপ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত প্লাস্টিক সার্জারি বা রূপচর্চার খরচের একটি বড় অংশ সদস্যদের নিজেদের মেটাতে হবে বলে উল্লেখ ছিল।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও শিল্পীদের নাম, চেহারা এবং কণ্ঠস্বর আজীবন ব্যবহারের অধিকার লেবেলের হাতে থাকা। এই শর্তের কারণে ভবিষ্যতে সদস্যদের এআই ক্লোন বা চ্যাটবট তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগও ছিল।

হাইব ও অ্যাডরের আত্মপক্ষ সমর্থন

প্রতিবেদন প্রকাশের পর আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে হাইব ও অ্যাডর। তাদের দাবি, চুক্তিগুলো শিশু সুরক্ষা আইন মেনেই করা হয়েছে। লেবেলটি জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শিল্পী, তাঁদের অভিভাবক এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরই চুক্তিটি করা হয়।

প্রেমের সম্পর্কের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অ্যাডর জানায়, শিল্পীদের বিতর্ক থেকে দূরে রাখতেই অভিভাবকদের সম্মতিতে এই শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। জোর করে প্লাস্টিক সার্জারি করানোর অভিযোগও অস্বীকার করেছে হাইব। এ ছাড়া এআই ক্লোন তৈরির প্রসঙ্গে তারা জানায়, ব্যক্তিগত সম্মতি ছাড়া শিল্পীদের চেহারা বা কণ্ঠস্বর ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

আইনি লড়াই এবং বর্তমান পরিস্থিতি

২০২২ সালে আত্মপ্রকাশের পরই আলোচনায় আসে নিউ জিনস। কিন্তু ২০২৪ সালে হাইব ও অ্যাডরের সাবেক সিইও মিন হি-জিনের দ্বন্দ্বের জেরে ব্যান্ডের কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। একই বছরের নভেম্বরে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে লেবেল ছাড়ার ঘোষণা দেন ব্যান্ডের সদস্যরা। তবে অ্যাডর এর বিরোধিতা করে মামলা করলে ২০২৫ সালে সিউলের আদালত লেবেলের পক্ষেই রায় দেন। বর্তমানে ব্যান্ডের চার সদস্য মিনজি, হানি, হ্যারিন ও হেইন ফিরে এলেও ড্যানিয়েলের ফেরা নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত