পল্লব শাহরিয়ার

পড়াশোনার নাম শুনলেই অনেক শিক্ষার্থীর মনে বিরক্তি জাগে। বই খুললেই চোখে ঘুম নেমে আসে, মোবাইলের নোটিফিকেশন ডাকতে থাকে, কিংবা হঠাৎ মনে হয় ঘরের অগোছালো জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া দরকার। এভাবেই গড়িমসি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সঙ্গী হয়ে ওঠে। অথচ পড়াশোনা কোনো শাস্তি নয়; এটি নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের এক মহা সুযোগ। যদি কৌশলে পড়া যায়, তবে শিক্ষার পথ আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। চলুন জেনে নিই পড়াশোনাকে আনন্দময় করার ৭টি কার্যকর কৌশল।
ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
অনেক সময় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করলে মনে ভয় ধরতে পারে। যেমন এক সপ্তাহে পুরো বই শেষ করব। বড় লক্ষ্য চাপ বাড়ায়, ফলে শুরু করতেই ইচ্ছে হয় না। তাই প্রতিদিনের জন্য ছোট ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন আজ কেবল একটি কবিতার সারাংশ শিখব, অথবা দুটি অঙ্ক অনুশীলন করব। প্রতিদিনের ছোট লক্ষ্য পূরণ হলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা পরের দিনের পড়াশোনায় নতুন শক্তি জোগায়।
পড়াশোনাকে খেলায় পরিণত করুন
শিশুরা যেমন খেলায় মেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়, পড়াশোনাও যদি খেলার মতো হয় তবে সেটি আনন্দের হয়ে ওঠে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ দিন, ২০ মিনিটে একটি অধ্যায় শেষ করতে পারি কি না। এরপর কাজ শেষ হলে নিজেকে ছোট পুরস্কার দিন, প্রিয় গান শুনুন বা প্রিয় খাবার খান। চাইলে পয়েন্ট সিস্টেম বানাতে পারেন: প্রতিটি কাজ শেষে পয়েন্ট যোগ হবে, সপ্তাহ শেষে বেশি পয়েন্টে ছোট পুরস্কার। এভাবে পড়াশোনা ধীরে ধীরে খেলায় পরিণত হয়।
পোমোডোরো টেকনিক ব্যবহার করুন
একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করলে ক্লান্তি আসে, মনোযোগ ভেঙে যায়। তাই ব্যবহার করতে পারেন পোমোডোরো টেকনিক। নিয়মটা হলো:
এই ছোট বিরতিগুলো মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে, পড়া মনে থাকে ভালোভাবে, আর গড়িমসির সুযোগ কমে যায়।
পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন
মনোযোগ নষ্ট হওয়ার বড় কারণ হলো পড়ার পরিবেশ। পড়ার টেবিলে যদি মোবাইল, হেডফোন বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থাকে, তবে পড়ায় মন বসে না। তাই নিরিবিলি জায়গা বেছে নিন এবং টেবিলে কেবল দরকারি বই-খাতা রাখুন। পরিচ্ছন্ন ঘর ও হালকা আলোও পড়ার আগ্রহ বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুশৃঙ্খল পরিবেশে বসলে মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় হয়।
পড়াশোনায় বৈচিত্র্য আনুন
একটানা একই বিষয় পড়তে গেলে একঘেয়েমি আসে। যেমন দীর্ঘ সময় শুধু গণিত পড়লে ক্লান্তি এসে যায়। তাই বৈচিত্র্য আনুন। আধঘণ্টা গণিত পড়ার পর বাংলা গদ্য পড়তে পারেন, তারপর বিজ্ঞানের চিত্র অঙ্কন করুন। বিষয় বদলালে মস্তিষ্ক নতুন উদ্যমে শিখতে চায়।
শরীর ও মনের যত্ন নিন
পড়াশোনায় আগ্রহ হারানোর পেছনে শারীরিক কারণও কাজ করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মনোযোগ কমে যায়। তাই নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবার দরকার। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা কিছু হাত-পা নড়াচড়া করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ে, মনোযোগও বাড়ে। একই সঙ্গে মনের চাপ কমাতে কয়েক মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন বা মেডিটেশন করতে পারেন।
শেখা ভাগ করুন
পড়াশোনাকে আনন্দময় করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শেখা জিনিস ভাগ করা। বন্ধু, পরিবার বা ছোট ভাইবোনকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি কী শিখলেন। অন্যকে শেখালে নিজের শেখা আরও দৃঢ় হয়। আর শেখানোর আনন্দে পড়াশোনা বিরক্তিকর মনে হয় না।
অলসতা একেবারে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছোট ছোট লক্ষ্য, সঠিক কৌশল, মনোযোগী পরিবেশ ও সুস্থ দেহ-মনের সমন্বয়ে পড়াশোনা হয়ে ওঠে আনন্দের। মনে রাখতে হবে—শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্যই আমরা শিখি। আর শেখা যখন আনন্দময় হয়, তখন সাফল্যও হাতের মুঠোয় চলে আসে।

পড়াশোনার নাম শুনলেই অনেক শিক্ষার্থীর মনে বিরক্তি জাগে। বই খুললেই চোখে ঘুম নেমে আসে, মোবাইলের নোটিফিকেশন ডাকতে থাকে, কিংবা হঠাৎ মনে হয় ঘরের অগোছালো জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া দরকার। এভাবেই গড়িমসি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সঙ্গী হয়ে ওঠে। অথচ পড়াশোনা কোনো শাস্তি নয়; এটি নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের এক মহা সুযোগ। যদি কৌশলে পড়া যায়, তবে শিক্ষার পথ আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। চলুন জেনে নিই পড়াশোনাকে আনন্দময় করার ৭টি কার্যকর কৌশল।
ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
অনেক সময় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করলে মনে ভয় ধরতে পারে। যেমন এক সপ্তাহে পুরো বই শেষ করব। বড় লক্ষ্য চাপ বাড়ায়, ফলে শুরু করতেই ইচ্ছে হয় না। তাই প্রতিদিনের জন্য ছোট ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন আজ কেবল একটি কবিতার সারাংশ শিখব, অথবা দুটি অঙ্ক অনুশীলন করব। প্রতিদিনের ছোট লক্ষ্য পূরণ হলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা পরের দিনের পড়াশোনায় নতুন শক্তি জোগায়।
পড়াশোনাকে খেলায় পরিণত করুন
শিশুরা যেমন খেলায় মেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়, পড়াশোনাও যদি খেলার মতো হয় তবে সেটি আনন্দের হয়ে ওঠে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ দিন, ২০ মিনিটে একটি অধ্যায় শেষ করতে পারি কি না। এরপর কাজ শেষ হলে নিজেকে ছোট পুরস্কার দিন, প্রিয় গান শুনুন বা প্রিয় খাবার খান। চাইলে পয়েন্ট সিস্টেম বানাতে পারেন: প্রতিটি কাজ শেষে পয়েন্ট যোগ হবে, সপ্তাহ শেষে বেশি পয়েন্টে ছোট পুরস্কার। এভাবে পড়াশোনা ধীরে ধীরে খেলায় পরিণত হয়।
পোমোডোরো টেকনিক ব্যবহার করুন
একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করলে ক্লান্তি আসে, মনোযোগ ভেঙে যায়। তাই ব্যবহার করতে পারেন পোমোডোরো টেকনিক। নিয়মটা হলো:
এই ছোট বিরতিগুলো মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে, পড়া মনে থাকে ভালোভাবে, আর গড়িমসির সুযোগ কমে যায়।
পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন
মনোযোগ নষ্ট হওয়ার বড় কারণ হলো পড়ার পরিবেশ। পড়ার টেবিলে যদি মোবাইল, হেডফোন বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থাকে, তবে পড়ায় মন বসে না। তাই নিরিবিলি জায়গা বেছে নিন এবং টেবিলে কেবল দরকারি বই-খাতা রাখুন। পরিচ্ছন্ন ঘর ও হালকা আলোও পড়ার আগ্রহ বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুশৃঙ্খল পরিবেশে বসলে মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় হয়।
পড়াশোনায় বৈচিত্র্য আনুন
একটানা একই বিষয় পড়তে গেলে একঘেয়েমি আসে। যেমন দীর্ঘ সময় শুধু গণিত পড়লে ক্লান্তি এসে যায়। তাই বৈচিত্র্য আনুন। আধঘণ্টা গণিত পড়ার পর বাংলা গদ্য পড়তে পারেন, তারপর বিজ্ঞানের চিত্র অঙ্কন করুন। বিষয় বদলালে মস্তিষ্ক নতুন উদ্যমে শিখতে চায়।
শরীর ও মনের যত্ন নিন
পড়াশোনায় আগ্রহ হারানোর পেছনে শারীরিক কারণও কাজ করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মনোযোগ কমে যায়। তাই নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবার দরকার। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা কিছু হাত-পা নড়াচড়া করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ে, মনোযোগও বাড়ে। একই সঙ্গে মনের চাপ কমাতে কয়েক মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন বা মেডিটেশন করতে পারেন।
শেখা ভাগ করুন
পড়াশোনাকে আনন্দময় করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শেখা জিনিস ভাগ করা। বন্ধু, পরিবার বা ছোট ভাইবোনকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি কী শিখলেন। অন্যকে শেখালে নিজের শেখা আরও দৃঢ় হয়। আর শেখানোর আনন্দে পড়াশোনা বিরক্তিকর মনে হয় না।
অলসতা একেবারে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছোট ছোট লক্ষ্য, সঠিক কৌশল, মনোযোগী পরিবেশ ও সুস্থ দেহ-মনের সমন্বয়ে পড়াশোনা হয়ে ওঠে আনন্দের। মনে রাখতে হবে—শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্যই আমরা শিখি। আর শেখা যখন আনন্দময় হয়, তখন সাফল্যও হাতের মুঠোয় চলে আসে।

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত ‘আইএইউপি’ এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন-২০২৬-এ আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
১ দিন আগে
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। এর তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে।
১ দিন আগে
দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৩৫ বছরে পদার্পণ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর ৩৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে।
২ দিন আগে
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) পাঠকবন্ধু শাখার নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু করেছে। নতুন বছরে নতুন কমিটির বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা সভার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সদস্যরা নিজেদের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
২ দিন আগে