বাংলাদেশ সরকার এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পেটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি)’ আওতায় এই প্রথম চালু হয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (বিআইআরডিআই) গ্র্যান্টস। এই কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি গবেষণা দলের প্রস্তাবিত প্রকল্প চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। ‘স্মার্ট ডাইং: এন এআই-ড্রিভেন, ক্লোজড-লুপ প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম ফর অপটিমাইজিং রিসোর্স কনজাম্পশন ইন নিট ফ্যাব্রিক ডাইং’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আর্থিক মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা বুটেক্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গবেষণা অনুদান।
বিআইআরডিআই গ্র্যান্টস মূলত শিল্প খাতের উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানের গবেষণায় উৎসাহের জন্য দেওয়া হয়। নির্বাচিত এই প্রকল্পে নিট ডাইং শিল্পে প্রচলিত পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণায় একাডেমিয়া, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং মেশিন লার্নিংয়ে দক্ষ গবেষকদের সমন্বয়ে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন গড়ে তোলা হবে। এতে দেশের টেক্সটাইল শিল্পে গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
গবেষণা দলের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে সহগবেষক রয়েছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী সিরাজুল ইসলাম ও প্রভাষক মাহমুদুল হাসান। এ ছাড়া শিল্প বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত আছেন জিএমএস টেক্সটাইলস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রাশেদ রানা বাবু সরকার এবং সাউথ-ইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কাজী রাফিউর রহমান।
গবেষণা দলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের আগস্টে বিআইআরডিআই গ্র্যান্টসের জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হলে তারা এতে আবেদন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যা এবং প্রস্তাবিত সমাধানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও দক্ষতাভিত্তিক প্রভাব তুলে ধরে তারা ইওআই জমা দেয়। ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত ফলাফলে তাদের প্রস্তাব সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে কমপ্রিহেনসিভ গ্র্যান্ট অ্যাপ্লিকেশন (সিজিএ) অথবা বিস্তারিত গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। পূর্ণাঙ্গ সিজিএ জমা দেওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রস্তাবটি টেকনিক্যাল মূল্যায়নে গৃহীত হয় এবং নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের জন্য দলটিকে আহ্বান জানানো হয়। গবেষণা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক ও আর্থিক যৌক্তিকতা উপস্থাপনের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে বিআইআরডিআই গ্র্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।
গবেষণা দলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে কটন নিট ফ্যাব্রিক ডাইং কারখানাগুলোতে বিপুল পানি, জ্বালানি ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা নদী ও খালের জলজ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এসব সম্পদের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
‘স্মার্ট ডাইং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডাইং-প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রসেসিং সময় এবং পানির ব্যবহার কমিয়ে আনা হবে। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি, ডাইস ও কেমিক্যালের ব্যবহারও কমে আসবে। গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী প্রকল্পটি সফল হলে পানি ও জ্বালানির ব্যবহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং ডাইস ও কেমিক্যালের ব্যবহার কমপক্ষে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এতে দেশের নিট ডাইং শিল্পে প্রতি কেজি ফ্যাব্রিক ডাইং খরচ ১৫ থেকে ১৭ টাকা কমতে পারে।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। শুধু তিনজন শিক্ষকের জন্য নয়, আমাদের বিভাগ ও পুরো বুটেক্সের জন্য এটি গর্বের। তবে গবেষণা অনুদান পাওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সফলভাবে গবেষণাটি সম্পন্ন করা। সেই লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।’
সহগবেষক কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই অনুদান অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বহু ধাপের কঠোর মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে ১৩২টি প্রকল্প প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র ১২টি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে। এর একটি আমাদের প্রকল্প। বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই প্রকল্পে এআই-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাইং-প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ, নিয়ন্ত্রিত ও তথ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
গবেষণা দলটির আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বস্ত্রশিল্প আরও প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই এবং ভবিষ্যৎমুখী হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এটি শিল্প এবং একাডেমিয়ার সমন্বিত গবেষণার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবনী গবেষণার পথও সুগম হবে।

রমজানের বিকেল মানেই মুসলিমদের ঘরে ঘরে ইফতার আয়োজনের ব্যস্ততা। সারা দিনের রোজা শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করার আনন্দ যেন আলাদা এক অনুভূতি। তবে বগুড়ার পাঠকবন্ধুর সদস্যদের কাছে পরিবারের পরিধি আরও বিস্তৃত। নিজ নিজ পরিবারের বাইরে তাঁদের রয়েছে আরেকটি পরিবার—‘পাঠকবন্ধু’।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। মার্চ মাসের শুরু থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পূর্ণ হয়ে ওঠে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছায়। অফিসে, প্রতিষ্ঠানে, এমনকি ঘরেও এ নিয়ে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি দেখা যায়। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, এই উদ্যাপন কি সত্যিই নারীর দৈনন্দিন সংগ্রাম ও বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে...
৩ ঘণ্টা আগে
কল্পনা করুন, জনবহুল মেলায় সন্তান হারিয়ে গেছে কিংবা গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় কোনো নারী বিপদে পড়েছেন। স্মার্টফোনে মাত্র একটি ক্লিক, আর ১০ মিনিটের মধ্যে সমাধান! সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও এটি বাস্তব।
৪ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) আয়োজন করেছে ‘সম্প্রীতির ইফতার মাহফিল’। এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একসঙ্গে রোজা ভাঙার আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
৫ ঘণ্টা আগে