Ajker Patrika

ভিডিও গেমস শিল্পে সেরা ১০ ক্যারিয়ার

ক্যারিয়ার ডেস্ক
ভিডিও গেমস শিল্পে সেরা ১০ ক্যারিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই এখন গেমস শিল্পে চাকরির স্বপ্ন দেখছেন। একসময় যা ছিল শখ, এখন তা বড় বৈশ্বিক শিল্প। চলতি বছরে এর আয় ৫৭৭ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে কাজের সুযোগও বাড়ছে।

তবে চ্যালেঞ্জও আছে। এআইয়ের প্রভাবে চাকরির ধরন বদলাচ্ছে। অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো গেম নির্মাতারাও কর্মী ছাঁটাই করছে।

তবু শিল্পটি এগিয়ে চলেছে, আর এআইয়ের যুগে নতুন পেশাও তৈরি হতে পারে। ভালো পোর্টফোলিও থাকলে কিংবা অন্য খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইলে নিচের ১০টি পেশা ভেবে দেখতে পারেন।

গেম সফটওয়্যার ডেভেলপার

প্রায় প্রতিটি সফল গেমের পেছনে থাকেন একদল ডেভেলপার। চরিত্রের চলাফেরা, লড়াই, মেনু, অনলাইনে একসঙ্গে খেলা সবকিছুর কোড তাঁরাই লেখেন ও সামলান। ভাইব কোডিং একদিকে হুমকি, অন্যদিকে কাজের গতি বাড়ানোর হাতিয়ারও। প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষতা এখানে জরুরি।

গেম ডিজাইনার

গেমের মূল ধারণা, নিয়ম ও খেলার ধরন ঠিক করেন তাঁরা। অনেকটা চলচ্চিত্র পরিচালকের মতো। ডিগ্রি সহায়ক হলেও অভিজ্ঞতা আর ভালো পোর্টফোলিওতেও যোগ্যতা প্রমাণ করা যায়।

গেম আর্টিস্ট ও অ্যানিমেটর

চরিত্র, পরিবেশ ও দৃশ্য গড়েন আর্টিস্টরা। অ্যানিমেটররা সেগুলোকে নড়াচড়া ও অভিব্যক্তিতে প্রাণ দেন। এখানে আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও সবচেয়ে বড় সম্বল। এআই কাজের ধরন বদলাচ্ছে, তবে অনেক শিল্পী একে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন।

অডিও ডিজাইনার

শব্দের কদর অনেক সময় কম হয়, অথচ গেমের উত্তেজনা ও বাস্তবতা তৈরিতে এর ভূমিকা বড়। পায়ের শব্দ, বিস্ফোরণ কিংবা রহস্যময় আবহ, সবই তাঁদের কাজ। গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬-এর মতো বড় বাজেটের গেমে অডিওর পেছনে বিপুল অর্থ ও নানা পেশার মানুষ লাগে।

গেম প্রযোজক

বিভিন্ন দলের মধ্যে সমন্বয় রাখা, সময়সূচি ঠিক করা ও কাজ সময়মতো শেষ করানো প্রযোজকের দায়িত্ব। বড় প্রকল্পে শত শত মানুষ কাজ করেন, তাই এই ভূমিকা অপরিহার্য। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে দক্ষদের জন্য এটি উপযুক্ত।

গেম লেখক ও ন্যারেটিভ ডিজাইনার

‘দ্য উইচার’ ও ‘দ্য লাস্ট অব আস’ থেকে চলচ্চিত্র ও সিরিজ হয়েছে, গেমের গল্প এতটাই সমৃদ্ধ। কেউ সংলাপ লেখেন, কেউ গল্পের কাঠামো গড়েন, কেউ সম্পাদনা বা গবেষণা করেন। ঐতিহাসিক গেমে তথ্যের যথার্থতাও যাচাই করতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিপণনকর্মী

ইউটিউব, এক্স ও টিকটকে গেমের প্রচার চালান তাঁরা। অনেক সময় গেম বাজারে আসার কয়েক বছর আগে কাজ শুরু হয়।

কমিউনিটি ম্যানেজার

মাইনক্রাফট ও ফোর্টনাইটের মতো গেমকে ঘিরে বড় গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, মতামত শোনা, আপডেটের খবর জানানো কমিউনিটি ম্যানেজারের কাজ। গেম প্রকাশের পরও এই কাজ চলতে থাকে।

কিউএ টেস্টার

প্রকাশের আগে গেমের ত্রুটি ও অস্বাভাবিক আচরণ খুঁজে বের করেন তাঁরা। আনুষ্ঠানিক কারিগরি যোগ্যতা না থাকলেও এটি প্রবেশের একটি পথ হতে পারে। তবে শুধু খেলার শখ যথেষ্ট নয়, চাই ধৈর্য, সূক্ষ্ম দৃষ্টি আর স্পষ্ট প্রতিবেদন লেখার দক্ষতা।

ভয়েস আর্টিস্ট

কণ্ঠশিল্পীরা চরিত্রে প্রাণ আনেন। সংলাপ, যুদ্ধের চিৎকার, বর্ণনা সবখানেই তাঁদের কাজ। বড় বাজেটের গেমে মোশন ও পারফরম্যান্স ক্যাপচারেও কাজের সুযোগ আছে।

সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শেখার আগ্রহ থাকলে এই শিল্পে সম্ভাবনার দরজা খোলা। নিজেকে নিয়মিত হালনাগাদ রাখাই দীর্ঘ মেয়াদে সফল হওয়ার চাবিকাঠি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত