Ajker Patrika

ঈদ কেনাকাটায় ফ্রিজ বিক্রিতে উচ্ছ্বাস, ক্রেতার পছন্দে ওয়ালটনের আধিপত্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ঈদ কেনাকাটায় ফ্রিজ বিক্রিতে উচ্ছ্বাস, ক্রেতার পছন্দে ওয়ালটনের আধিপত্য
ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনতে দোকানে ক্রেতারা। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। পোশাক ও জুতার পাশাপাশি গৃহস্থালি ইলেকট্রনিকস পণ্য, বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ কেনার প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই খাদ্য সংরক্ষণ এবং ইফতার ও সেহরির প্রস্তুতির সুবিধার্থে নতুন ফ্রিজ কেনার প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই মৌসুমি চাহিদাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশীয় ইলেকট্রনিকস খাতের শীর্ষ ব্র্যান্ড ওয়ালটন ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ওয়ালটন প্লাজা ও পরিবেশক শোরুমগুলোতে বর্তমানে ক্রেতাদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকা ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা শহরেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রয় প্রতিনিধিরা। বর্তমানের সচেতন ক্রেতারা কেবল পণ্য কেনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, দীর্ঘস্থায়ী এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ফ্রিজ খুঁজছেন। ওয়ালটন তাদের উদ্ভাবনী ডিজাইন ও দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে বাজারে এই আস্থার জায়গাটি সুদৃঢ় করেছে।

রমজানে ফ্রিজের চাহিদা বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোয়েব আহমেদ বলেন, ‘রমজান মাসে পরিবারভিত্তিক খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ইফতার ও সেহরির জন্য আগে থেকে খাবার প্রস্তুত রাখা, ফল, দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, হিমায়িত খাদ্য এবং রান্না করা খাবার নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য বড় বা উন্নতমানের ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভূত হয়। ফলে এই সময়ে বহু পরিবার পুরোনো ফ্রিজ পরিবর্তন করে নতুন ফ্রিজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই প্রতিবছরই রমজানে ফ্রিজের চাহিদা ও বিক্রি বৃদ্ধি পায়।

ফ্রিজ বিক্রির এই বিশাল বাজার নিয়ে ওয়ালটন ফ্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার তাহসিনুল হক জানান, ঈদ মৌসুমে বরাবরই ফ্রিজের বিক্রি বেশ ভালো হয়। অনেক ক্রেতাই নতুন ফ্রিজ কেনার জন্য ঈদের আগের সময়টাকে বেছে নেন। কেননা এই সময় বেতন, বোনাস মিলিয়ে ক্রেতাদের কাছে বাড়তি টাকা থাকে। তাই বাংলাদেশে রোজা ও কোরবানির ঈদকে ফ্রিজ বিক্রির প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারা বছরের মোট ফ্রিজ বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি বিক্রি হয় এই সময়টাতে।

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনতে দোকানে ক্রেতারা। ছবি: বিজ্ঞপ্তি
ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনতে দোকানে ক্রেতারা। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

তাহসিনুল হক আরও উল্লেখ করেন যে, উন্নত প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য কর্মক্ষমতার কারণে ওয়ালটন ফ্রিজ এখন আধুনিক রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ওয়ালটন ফ্রিজে যুক্ত হওয়া অ্যাডভান্সড এআই (AI) এবং আইওটি (IoT) ফিচারের কারণে প্রযুক্তিপ্রেমী ক্রেতাদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বর্তমানে ওয়ালটন ফ্রিজে যুক্ত রয়েছে এআই ডক্টর, এমএসও ইনভার্টার টেকনোলজি, ডুয়াল টেম্পারেচার কন্ট্রোল এবং ২১.৫ ইঞ্চির ডিসপ্লের মতো সব আধুনিক স্মার্ট সুবিধা, যা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকে সামনে রেখে গৃহস্থালি প্রস্তুতিতে যখন নতুন ফ্রিজ কেনার প্রবণতা বাড়ছে, তখন প্রযুক্তি, ব্যবহারিক সুবিধা এবং বাজার-সম্মত দামের সমন্বয়ে ওয়ালটন নিজেকে বরাবরই শক্তিশালী অবস্থানে তুলে ধরছে। দেশীয় উৎপাদনভিত্তিক একটি ব্র্যান্ড হিসেবে এটি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়; বরং বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পের সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে ফ্রিজ গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ওয়ালটন। সারা দেশে চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৩ এর ‘নেক্সট লেভেল ডিল’ অফারের আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম অথবা অনলাইনে ফ্রিজে কিনে ক্রেতারা ওয়ালটন ব্র্যান্ডেরই সর্বাধুনিক ডিজাইন ও ফিচার সমৃদ্ধ সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য ফ্রি ও নিশ্চিত উপহার পাচ্ছেন। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রতিদিনই দেশজুড়ে অসংখ্য ক্রেতা ফ্রি পণ্যসহ নিশ্চিত উপহার পাচ্ছেন।

এ ছাড়া, এই রমজানে ওয়ালটন প্লাজার ‘সংযমে সাশ্রয়’ ক্যাম্পেইনের আওতায় রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারে ১০% ছাড় পাচ্ছেন ক্রেতারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ওয়ালটন প্লাজা বা অনলাইনে ফ্রিজ ক্রয়ে এই বিশেষ ছাড় পাবেন ক্রেতারা। পাশাপাশি চলতি মাসের ৬ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত ‘ঈদ ও উইকেন্ড স্পেশাল’ অফারের আওতায় অনলাইনে ওয়ালটনের নির্দিষ্ট মডেলের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার ১৮% পর্যন্ত ছাড়ে কেনা যাচ্ছে।

ওয়ালটনের রেফ্রিজারেশন ক্যাটাগরিতে ডাইরেক্ট কুল, নো-ফ্রস্ট, ফ্রিজার, বেভারেজ কুলার এবং আপকামিং মডেলসহ একাধিক সেগমেন্ট রয়েছে। ব্র্যান্ডটি বিভিন্ন আয়ের ক্রেতাকে লক্ষ্য করে ৫০ লিটার থেকে শুরু করে ৬৬০ লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার ৩’ শতাধিক মডেল নিয়ে বাজার সাজিয়েছে। এসব ফ্রিজের দাম পড়বে ১৫,৬৯০ টাকা থেকে ২,৪০, ০০০ টাকার মধ্যে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত