ভাতিজার শাবলের আঘাতে প্রাণ গেল চাচির, গুরুতর আহত ৩

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভাতিজার শাবলের আঘাতে সোনা বানু (৪৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই পরিবারের আরও তিনজন।
আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রৌমারী ইউনিয়নের উত্তর বারবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত ভাতিজা ফারুক হোসেনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সোনা বানু ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের ভাতিজা ফারুক কয়েক মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেশে ফেরার পর গত কয়েক দিন ধরে ফারুক অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন। কখনো মায়ের কাছে মাদক কেনার টাকা চাইছিলেন, আবার কখনো চাচার কাছে জমির দলিল চেয়ে বিবাদে জড়াচ্ছিলেন। ফারুক মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। আজ সকালে তাঁর আচরণ আরও উগ্র হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে ফারুক ঘর থেকে দা ও শাবল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় শাবলের আঘাতে তাঁর চাচি সোনা বানু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দায়ের কোপে গুরুতর আহত হন ফারুকের বড় বোন মমিনা খাতুন (৩০), ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা খাতুন (২৬) ও চাচা খলিলুর রহমান (৪৭)। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, দুবাইফেরত ফারুক মাদকাসক্ত। তিনি তাঁর ছেলে মাহমুদুল ও মা জামিরন বেগমকে একটি ঘরে আটকে রেখেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন ফারুককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর আচরণ বেশ অসংলগ্ন বলে মনে হয়েছে। নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।









