গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নের পাইনশাইল এলাকায় আজ সোমবার দুপুরে তুরাগ নদের শাখা নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে চার স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রীর মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অপর কিশোরীকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তিন ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম বইছে। ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন শত শত স্থানীয় জনতা।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলার পাইনশাইল উত্তর পাড়া এলাকায় আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে প্রতিবেশী পাঁচ ছাত্রী তুরাগ নদের শাখা নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় এক ছাত্রী পানির স্রোতে তলিয়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে অপর ছাত্রীরা এগিয়ে আসে। এরপর পর্যায়ক্রমে চারজনই পানির স্রোতে ডুবে যায়। অপর শিক্ষার্থী সাঁতরে তীরে উঠে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে চেষ্টা শুরু করে। পরে স্থানীয়রা তুরাগ নদী থেকে রিচি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এরপর পৌনে ৪টার দিকে নিখোঁজ আইরিন ও মায়ার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে এখনো রিয়ার হদিস পায়নি ফায়ার সার্ভিস। তাঁকে উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মৃত তিন ছাত্রী হলেন-পাইনশাইল এলাকার সোলেমানের মেয়ে সাদিয়া আক্তার রিচি (১৪), হায়েত আলীর মেয়ে আইরিন আক্তার (১৪), একই এলাকার মো. মঞ্জুর আলমের মেয়ে মায়া আক্তার (১৫)। এদের মধ্যে আইরিন গাছ পুকুর পাড় দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী, রিচি ভাওয়াল মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং মায়া ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। নিখোঁজ রিয়া আক্তার স্থানীয় সোলেমানের মেয়ে ও একই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
জয়দেবপুর থানার ওসি মাহতাব উদ্দিন জানান, খালের পানির স্রোতের টানে রিচি খালের গভীরে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় তার সঙ্গীরা চিৎকার শুরু করে এবং তাঁকে উদ্ধার করতে তাঁরাও পানিতে নেমে তলিয়ে যায়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ একজনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তৎপর রয়েছে।










