সরকারি চাকরি: ৯ মাসে আটক, জেল ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীর
• সবচেয়ে বেশি ভুয়া পরীক্ষার্থী জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায়।
• মামলার পর সংক্ষিপ্ত বিচারে ১৫ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সাজা।
• জড়িত ব্যক্তিদের পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরামর্শ।

চাকরির জন্য আবেদন করেন একজন, আর নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন অন্যজন। সরকারি নিয়োগে এমন ভুয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ৯ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার সময় ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে ধরা পড়েছেন ৩ শতাধিক। তাঁদের তাৎক্ষণিক সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চাকরির পরীক্ষায় এমন প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির ঘটনা বাড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। এর জন্য শুধু সংক্ষিপ্ত বিচার করলেই হবে না। প্রতারণার দায়ে জড়িত আবেদনকারী ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উভয়ের বিরুদ্ধেই নিয়মিত মামলা এবং তাঁদের আজীবন পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।’ বায়োমেট্রিকসহ পরীক্ষা পদ্ধতিও উন্নত করা দরকার। যাতে একজনের পরীক্ষায় অন্যজন অংশ গ্রহণের সুযোগ না পায়। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার জন্য নতুন নীতিমালা করার পরামর্শ দেন সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণামূলকভাবে অংশগ্রহণের ঘটনায় ৩১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ১১৫টি মামলা দায়েরের পর সংক্ষিপ্ত সাজার মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে। বিচারক নিয়োগের এই পরীক্ষায় ২৪৬ জনকে আটক করে ১০৫টি মামলা করা হয়েছে। কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় আটক করা হয়েছে ৩০ জনকে আর মামলা করা হয়েছে তিনটি।
এর বাইরে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটক হয়েছেন দুজন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের নিয়োগ পরীক্ষায় দুজন, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় তিনজন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটজন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় আটক হয়েছেন ২৮ জন। যাঁদের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের গেস্ট ফ্যাকাল্টি ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজ বলেন, একজনের হয়ে অন্যজন পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এর জন্য আবেদনকারী ও প্রক্সি দিতে আসা উভয়কে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। সেই সঙ্গে তাঁদের অন্তত পাঁচ বছর যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।









