Ajker Patrika

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ: সেতুর ইট-রড খুলে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, দুর্ভোগ

  • দুর্ভোগে পড়েছে আশপাশের চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
  • ব্রিজ টেন্ডারে আমি পেয়েছি। ভোটের কারণে কাজ বন্ধ: ইউপি চেয়ারম্যান
  • খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইউএনও
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২: ১৫
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ: সেতুর ইট-রড খুলে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, দুর্ভোগ
ইট ও রড খুলে নেওয়ার পর প্রায় শূন্যে ঝুলে থাকা একটি সেতু। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে নিলাম ও দরপত্র ছাড়াই পুরোনো ভালো সেতুর ইট ও রড খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। এদিকে চেয়ারম্যানের এই কাণ্ডে দুর্ভোগে পড়েছে আশপাশের চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার আলম মিয়ার বাড়িসংলগ্ন। পুরোনো সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ নেই। ভেঙে ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেতুটির রড ও ইট। প্রায় শূন্যে ঝুলে আছে সেতুটির বাকি অংশ। সেতুর দুই পাশে সড়ক কেটে যাতায়াতের পথ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। সেটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে ছোটখাটো যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে খুলে নেওয়া ইটের স্তূপ দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান সাহেব মাসখানেক আগে এখানে আসেন। সঙ্গে কয়েকজন লোকও ছিলেন। চেয়ারম্যান বলেন, ‘নতুন ব্রিজ হবে এখানে। সে কারণে পুরোনো এই ব্রিজ এখান থেকে অপসারণ করাতে হবে। আর আমি এই ব্রিজ ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছি। এরপর থেকে চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলে শ্রমিক লাগিয়ে ব্রিজটির ইট ও রড খোলা শুরু করেন। ৮ থেকে ১০ দিন ধরে ইট ও রড খুলে চেয়ারম্যান তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। পরে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেন চেয়ারম্যানের লোকজন। সেই থেকে ব্রিজের বাকি অংশ এভাবে শূন্যে ঝুলে আছে। আগে যানবাহনসহ মানুষজন চলাচল করত, এখন যানবাহন তো দূরের কথা, মানুষই চলাচল করতে পারছে না। প্রায় এক মাস ধরে এই অবস্থা।

দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের লাল মিয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও কন্ট্রাক্টর এসে বলেন, এখানে ব্রিজের টেন্ডার হয়েছে। সে কারণে পুরান ব্রিজ ভেঙে নিয়ে যাচ্ছি। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিজ করি দেব। আট দিন ধরি ইট, লোহালক্কর যা আছে, সবই নিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান মোকলেছুর। প্রায় এক মাস থাকি এভাবে পড়ে আছে ব্রিজটির বাকি অংশ। চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে আমাদের।’

সেতুর পাশেই বাড়ি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নজরুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘এখানেই আমার বাড়ি। আগে যা ছিল, তাতে চলাচল করা যেত। এখন যে অবস্থা করেছে, তাতে দুর্ভোগটা আরও বেড়েছে। আমি গাড়ি চালাই। দুর্ঘটনার ভয়ে এখান দিয়ে নামতেও পারি না, উঠতেও পারি না।’

উত্তর রাজীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজাউল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটা পুরোনো ব্রিজ ছিল। যাহোক, আমরা যাতায়াত করতাম। হঠাৎ চেয়ারম্যান এসে বললেন, এটা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছি। নতুন করে ব্রিজ করা হবে। পরে দেখি, কাজ কেন জানি বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের তো অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না করা হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সৈকত হাসান লিটন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। জনৈক এক ব্যক্তি ফোন করে আমাকে জানান। পরে ব্রিজের কাছে গিয়ে দেখি ঘটনা সত্য। তখন ওখানে চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলে ছিলেন। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি তাঁর বাবার কথা বলেন। তখন চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি ইউএনও ও পিআইও অফিসের লোককে জানাই। এই অবস্থার পর থেকে ৪ গ্রামের প্রায় ৫ হাজার লোকের যাতায়াতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমানের বাড়িতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, ‘পিআইও অফিসে গিয়ে খোঁজ নেন। ব্রিজ টেন্ডারে আমি পেয়েছি। ভোটের কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। ব্রিজের বাকি অংশ ভোটের পরে নিয়ে আসব।’

চেয়ারম্যান কাজটি কোনোভাবেই ঠিক করেননি বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। কোনো এক কাজে ওই এলাকায় গেলে পুরোনো সেতুটি ভাঙার বিষয়টি নজরে আসে। তখন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে নিষেধ করি। তবে পুরোনো সেতুটি অপসারণ করতে টেন্ডারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নিলাম ছাড়া ব্রিজটি ভেঙে নিয়ে যাওয়া ঠিক করেননি ইউপি চেয়ারম্যান। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যেভাবে প্রথম শিকারটি ধরেছিলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তাঁর প্রেমিকা গিলেইন

‘আমাকে বিয়ে করো’, এপস্টেইনকে বলেছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী, টাকাও ধার চেয়েছিলেন

কুখ্যাত এপস্টেইনের বাড়িতে চার দিন ছিলেন নরওয়ের হবু রানি

কাবাঘরের গিলাফ পাঠানো হয়েছিল কুখ্যাত এপস্টেইনের কাছে

বান্দরবানে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর নিহতের তিন বছর, সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত