যুগে যুগে ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন অদ্ভুত ডায়েট অনুসরণ করেন নারীরা। তেমনি একটি হলো টেপওয়ার্ম ডায়েট বা ফিতা কৃমির ডায়েট! উনিশ শতকের শুরুতে এই ডায়েট নিয়ে বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হতো।
এই ডায়েটে ফিতা কৃমির ডিম ভর্তি একটি বড়ি খাওয়া হতো। এই ডায়েটের তত্ত্ব ছিল, পেটে গিয়ে ডিমগুলো ফুটে কৃমি জন্মাবে। অন্ত্রের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হবে কৃমিগুলো, একপর্যায়ে বংশ বিস্তারও করবে। আর যারা এই ডায়েটে রয়েছেন তাঁরা যত খুশি খেতে পারবেন, কিন্তু মোটা হবেন না। এই ডায়েট করলে ওজন কমতো, কিন্তু ডায়রিয়া ও প্রচুর বমি হতো।
তখনকার নারীরা কাঙ্ক্ষিত ওজনে পৌঁছে গেলে কৃমিনাশক ওষুধ খেতেন। কিন্তু তার আগেই পেট ও মলদ্বারের ক্ষতি হয়ে যেত, ফলে পরবর্তীতে নানা জটিলতা দেখা দিত।
এই ডায়েট অনেক দিক দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি ফিতা কৃমি দৈর্ঘ্যে ৩০ ফুট (৯ মিটার) পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই ডায়েট মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, মেনিনজাইটিস, মৃগীরোগ এবং ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রষ্ট)–সহ অনেক অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
এই কৃমি মস্তিষ্কে পৌঁছে গেলে স্মৃতি ও দৃষ্টিশক্তির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও। কৃমির কারণে মস্তিষ্কে পানিও জমতে পারে ও সিস্ট (জলকোষ) হতে পারে। সিস্ট হলে অপারেশনও করতে হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে কাজ হয় না। প্রদাহ বা খিঁচুনি কমানোর ওষুধও দিতে হয়।
এ ছাড়া কৃমি হলে কিছু মানুষের কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) আসক্তি অনেক বেড়ে যায়। অন্ত্রের কৃমিগুলোর জন্য পুষ্টি সরবরাহ করার পরও প্রচুর শর্করা উদ্বৃত্ত থাকে। ফলে ওজন বাড়ে।
খাদ্য ইতিহাসবিদ অ্যানি গ্রে বলেন, ‘উনিশ শতকের সময় ডায়েটিং একটি বড় বাণিজ্যে পরিণত হয়েছিল। ব্যাপক বিজ্ঞাপন ডায়েট পণ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছিল। প্রচুর ডায়েট পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। সেলিব্রিটি ও গণমাধ্যমের প্রসার সেসময় ডায়েট শিল্পের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।
অনেক বছর পর বিশ শতকের জনপ্রিয় মার্কিন অপেরা গায়িকা মারিয়া ক্যালাস ওজন কমানোর জন্য এ ধরনের পরজীবী খেয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে অনেকে বলেছেন, এটি শুধুই গুজব!

রমজান মাসের ইফতারে তুলনামূলকভাবে বেশি ভাজাপোড়া আর মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া হয়। যাঁদের মিষ্টি পছন্দ, তাঁদের ধারণা থাকে সারা দিন রোজা রাখার পর চিনিজাতীয় জিনিস একটু বেশি খেলে ক্ষতি নেই। তবে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়। বরং ইফতারে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়...
১ ঘণ্টা আগে
সে এক সময় এসেছিল আমাদের দেশে, যখন পাকিস্তানি জোশে আক্রান্ত হয়ে একদল কবি-সাহিত্যিক বাংলা ভাষাটাকে হাস্যকর করে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, ভাষার মধ্যে জোর করে আরবি-ফারসি-উর্দু ঢুকিয়ে দিলেই ভাষাটি হয়ে যাবে মুসলমানের ভাষা। এর যে কোনো জাতপাত নেই, ধর্ম-অধর্ম নেই, সে কথাটা তাঁরা বিশ্বাস করতেন না।
২ ঘণ্টা আগে
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমে একদম স্পেনের সীমান্ত ঘেঁষে পিরিনিজ পর্বতমালা। এই পর্বতমালার দুই পাশে স্পেন ও ফ্রান্স। এই দুই দেশ মিলিয়ে ছবির মতো ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার বা ৮ হাজার বর্গমাইল ক্ষেত্রফলের এক বিশাল অঞ্চলে পাহাড়ি উপত্যকায় প্রাচীনকাল থেকে বাস করে আসছে বাস্ক জাতির মানুষ।
২ ঘণ্টা আগে
একমাত্র বলা যাবে না। তবে বাংলা ভাষার সংগ্রামের ইতিহাসটা দীর্ঘ। সেটা এই উপমহাদেশে তো বটে, বিশ্বেও বিরলতম ঘটনা। ইতিহাসের এই তথ্য স্বীকার করতে হবে। বাংলা ভাষা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়েছিল ১৯৫২ সালে, সেটা ছিল ভাষার জন্য বাংলা ভাষাভাষীদের আন্দোলনের...
২ ঘণ্টা আগে