গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও সংবিধানে না থাকার যুক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। যদিও আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ উভয় শপথ নেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সে অনুযায়ী, সরকারের প্রস্তুতিও নেওয়া ছিল।
এ পরিস্থিতিতে শপথ নেবে কিনা সে বিষয়ে বৈঠকে বসে জামায়াত ও এনসিপি জোট। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রথমে জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেন।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে দুটি শপথ নেন এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে উপস্থিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন আমিনুল হক, মির্জা আব্বাস এবং আরিফুল হক চৌধুরী।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি যশোর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য তিনি।
এর আগে আব্দুল মঈন খান ও এহসানুল হক মিলনও ডাক পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবে না এনসিপি। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়নগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগনের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে "সংবিধান সংস্কার পরিষদ" ও "সংসদ সদস্য" দুই পদেই শপথ গ্রহণ করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একই সাথে বিএনপি জনগণের রায় ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করায় আমরা আজ অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রীপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবো না।’
সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ দলীয় সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন।
তিনি বলেন, ‘জনগণ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, এজন্য আমরা দুটি শপথই নিচ্ছি। বিএনপি ক্ষমতামুখী দল হিসেবে শুধু সরকার গঠনের শপথ নিয়ে গণরায় উপেক্ষা করেছে।’
সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার নিয়ে জটিলতার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন। তবে এনসিপির সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও শপথ নিচ্ছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর।
নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান ও চাঁদপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।
২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করা মিলন আবারও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
মঈন খান ও মিলনের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও নতুন মুখও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডাক পেতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও সংবিধানে না থাকার যুক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। যদিও আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ উভয় শপথ নেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সে অনুযায়ী, সরকারের প্রস্তুতিও নেওয়া ছিল।
এ পরিস্থিতিতে শপথ না নেওয়ার কথা ভাবছে বিরোধী জামায়াত ও এনসিপি জোট। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ১১ দলীয় তাঁরা বৈঠকে বসেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোন শপথই নিবে না ১১ দলীয় জোট।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে কোন শপথ হবে না।
শপথ অনুষ্ঠানের দিন থেকেই জনরায় উপেক্ষা করে বিএনপি যে ধৃষ্টতা দেখালো, তা স্পষ্ট প্রতারণা।’
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুসারে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদে শপথ নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। কিন্তু তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সংবিধান নেই। তাঁরা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। এ কারণে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপি নির্বাচিত সংসদ সদদ্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়নি।