Ajker Patrika

Live: ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র

১৭: ২৪

‘ভেনেজুয়েলায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধ করুন’, যুক্তরাষ্ট্রকে চীন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্বিতীয় দফায় বিবৃতি দিয়েছে চীন। চীন জোর দিয়ে বলেছে, নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভেনিজুয়েলার সরকার উৎখাত চেষ্টা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়ে বেইজিং এই আক্রমণকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

গতকাল শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্রিফিংয়ের পর ভেনেজুয়েলা নিয়ে এটি চীনের দ্বিতীয় বিবৃতি।

শনিবার বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ওপর ‘আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড’ এবং ‘স্পষ্ট শক্তি প্রয়োগের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন, ওয়াশিংটনকে জাতিসংঘের সনদ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

১৬: ৪৩

ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র— ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চায় যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’,। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।

মার্কিন আক্রমণের বৈধতা এবং প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এমন বিবৃতি এল।

স্কাই নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় যুক্তরাজ্যের আন্তরাষ্ট্র সম্পর্ক মন্ত্রী ড্যারেন জোন্সকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ভেনেজুয়েলা আক্রমণের পর সেখানে সরকার চালানোর ঘোষণা উপনিবেশবাদ কিনা।

জোন্স বলেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদের পক্ষে নয়। তবে তিনি আরও যোগ করেন, সরকার এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয় যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্যের মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার ব্যাখ্যা করা উচিত যে পরবর্তীতে কী হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার সরকারের ভবিষ্যত নির্ধারণ করা তৃতীয় কোনও দেশের কাজ নয়।’

তবে মার্কিন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কিনা এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক আদালতের বিষয়।

১৫: ২৪

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাকে সমর্থন দিল পানামা

পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা এদমুন্দো গঞ্জালেসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এই সমর্থনকে ভেনেজুয়েলার ভোটারদের ‘গণতান্ত্রিক ইচ্ছা’ হিসেবে যা বর্ণনা করেছেন তিনি।

এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুলিনো বলেছেন, তাঁর সরকার ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের বৈধ ইচ্ছা’ সমর্থন করে।তিনি বলেন, গঞ্জালেসের প্রতি সমর্থন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। পানামা একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং বৈধ রূপান্তর প্রক্রিয়ার পক্ষে।

প্রাক্তন কূটনীতিক গঞ্জালেস ভেনেজুয়েলায় ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিজয়ী হিসেবে বেশ কয়েকটি দেশের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে সরকার গঠন করেছেন।

মুলিনো ২০২৪ সালে পানামার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। মধ্য-ডানপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত মুলিনো সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

১৫: ২০

ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ‘গভীর উদ্বেগের’ সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত

ভারত ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের মঙ্গল ও নিরাপত্তার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে এবং সব পক্ষকে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় অভিবাসীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

২০০০-এর দশকে ভারত ভেনেজুয়েলার তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা ছিল। তবে, ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর প্রথম কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর, ভারত দেশটি থেকে তেল আমদানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়।

১৩: ৩৮

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার করবে যুক্তরাষ্ট্র
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া দুজনেরই বিচার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: স্ক্রিনশট

ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। আইনি কর্তৃত্ব এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা দুটোই তাঁর হাতে রয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, সিলিয়া এবং তাঁর স্বামী মাদুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

১২: ৫৬

অবিলম্বে মাদুরোর মুক্তি চাইল চীন

অবিলম্বে মাদুরোর মুক্তি চাইল চীন
অবিলম্বে মাদুরোকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে চীন। ফাইল ছবি

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া। তাঁদের আটককে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে চীন।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করে দেশ থেকে বের করে দেওয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। চীন আমেরিকার প্রতি রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার, অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দেওয়ার, ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত প্রচেষ্টা বন্ধ করার এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

১২: ৪৯

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

ভেনিজুয়েলায় ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমেরিকা জুড়ে বিক্ষোভ চলছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলিতে বৃষ্টির মধ্যে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছে, তাদের হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড ‘এখনি ভেনেজুয়েলায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করো!’ এবং ‘তেলের বিনিময়ে রক্ত ​​নয়’। বক্তাদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে আরও লেখা ‘যুদ্ধ নয়! ট্রাম্প নয়!’

হোয়াইট হাউসের বাইরে, প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী আনসার কোয়ালিশন এবং অতীতে মাদুরোকে সমর্থনকারী পার্টি ফর সোশ্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশনের ডাকা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউসকে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলায় ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন।

শনিবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ারে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে মার্কিন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে।

এ ছাড়া লাস ভেগাসেও প্রায় ৫০ জনের একটি ছোট দল বিক্ষোভ করেছে।

১১: ৫৪

মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে ভেনেজুয়েলার ২২ শতাংশ মানুষ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ মানুষ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরে আনার আগে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল।

এই ঘটনার আগে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, উভয় দেশের জনগণের বেশিরভাগই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধী।

ডাটানালিসিসের ডিসেম্বরে করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ ভেনেজুয়েলাবাসী সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। মাত্র ২২ দশমিক ৬ শতাংশ এর পক্ষে মত দেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা মাদুরোকে উৎখাত করার জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিরোধী, পক্ষে মাত্র ২২ শতাংশ।

১০: ৩৪

‘আমাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে’, বলছেন ডেমোক্রেটরা

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের ব্যাপারে তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

তাঁরা বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের অন্ধকারে রেখেছে। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সময় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারী বলে অভিযুক্ত নৌকাগুলোর ওপর সামরিক হামলা চালানোর সময় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় শাসন পরিবর্তন চাচ্ছে না। কিন্তু ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা, সেই সঙ্গে কিছু রিপাবলিকান, এই সামরিক হামলার বৈধতার ভিত্তি কী জানতে এবং শেষ অবস্থা কী হবে সে ব্যাপারে হালনাগাদ জানাতে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের জন্য অনুরোধ করছেন। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলায় আরও সামরিক পদক্ষেপ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীকে সেখানে রাখার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

১০: ২৯

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় নিহত কমপক্ষে ৪০

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেনেজুয়েলার এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক সদস্য রয়েছেন। কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে একটি দরিদ্র উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত কাতিয়া লা মার পাড়ায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে মার্কিন বিমান আঘাত হেনেছে।

০৯: ৫৭

প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে অপরাধীর মতোই আচরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে অপরাধীর মতোই আচরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র
মাদুরোকে একটি করিডর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। ছবি: এক্স

মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্টুয়ার্ট বিমান ঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন বরোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মাদুরোকে সেখানে মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার নেতাকে একটি করিডর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

০০: ১৮

যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো এখন ভেনেজুয়েলায় যাবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো এখন ভেনেজুয়েলায় যাবে: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ায় দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করে দেশটির ভেঙে পড়া জ্বালানি অবকাঠামো সংস্কারে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে, বিপুল অর্থ ব্যয় করে অবকাঠামো ঠিক করবে এবং দেশের জন্য আয় তৈরি করবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাবনার তুলনায় ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে তেল উৎপাদন অত্যন্ত কম। ওদের সক্ষমতার তুলনায় প্রায় কিছুই উৎপাদন করছিল না।

২৩: ৫৩

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনে ১৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান অংশ নেয়

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এক সামরিক অভিযানে ১৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানটি কয়েক মাসের পরিকল্পনা ও মহড়া শেষে পরিচালিত হয় বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, এই ধরনের মিশনে ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। অভিযানের প্রস্তুতি কয়েক মাস আগে শুরু হয় এবং এতে বিমান, স্থল, মহাকাশ ও নৌ অভিযানের সমন্বয়ে পরিচালিত জটিল আন্তসংস্থাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়।

ড্যান কেইন বলেন, ‘আমরা নজর রেখেছি, অপেক্ষা করেছি এবং প্রস্তুতি নিয়েছি। পুরো সময়জুড়ে ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। অভিযানে পশ্চিম গোলার্ধজুড়ে সব মিলিয়ে ১৫০টির বেশি বিমান উড্ডয়ন করে।’

২৩: ৩১

আপাতত ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আপাতত ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণতার সঙ্গে’ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা শাসন করবে। নজিরবিহীন আগ্রাসন চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা করা শনিবার মার-এ লাগোতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।

ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অংশীদারত্ব’ দেশটির জনগণকে ‘সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও নিরাপদ’ করে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভেনেজুয়েলাবাসীরাও ‘অত্যন্ত খুশি’ হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা আর কষ্ট ভোগ করবে না।’

নিকোলা মাদুরোকে ‘অবৈধ স্বৈরশাসক’ আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, মাদুরোর শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়াবহ পরিমাণে প্রাণঘাতী অবৈধ মাদক’ প্রবেশ করেছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাদুরো কার্টেল দে লোস সোলেস নামের মাদক চক্র তদারকি করেছেন।

তবে এর আগে মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ মাদুরো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে একটি জাহাজে করে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে নিউইয়র্ক ও মায়ামির মধ্যে ‘শিগগিরই সিদ্ধান্ত’ হবে।

২৩: ০৬

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বন্দী মাদুরোর প্রথম ছবি প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

নজিরবিহীন মার্কিন আগ্রাসনে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর প্রথম ছবি প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ডেকে বন্দী অবস্থায় দেখা যায়।

ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইউএসএস আইও জিমায় নিকোলা মাদুরো।’ ছবিতে মাদুরোকে ধূসর ট্র্যাকসুট (ব্যায়ামের পোশাক) পরা দেখা যায়। তাঁর চোখ কালো পট্টি (সেন্সর-ডিপ্রাইভেশন গগলস) ও কানে হেডফোন। পানির বোতল ধরা মাদুরোকে তাঁকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।

২২: ৪০

ভেনেজুয়েলায় ‘স্বাধীনতার মুহূর্ত’ এসে গেছে— মার্কিন আগ্রাসনকে স্বাগত জানালেন নোবেলজয়ী মাচাদো

ভেনেজুয়েলায় ‘স্বাধীনতার মুহূর্ত’ এসে গেছে— মার্কিন আগ্রাসনকে স্বাগত জানালেন নোবেলজয়ী মাচাদো

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী নেতা ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, দেশটির জন্য ‘স্বাধীনতার মুহূর্ত’ এসে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

তাঁর মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেসের এখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ‘গ্রহণ করা উচিত’।

মাচাদো আরও বলেন, বিরোধীরা দেশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেবে।

নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রও এমন একটি ক্ষমতা হস্তান্তরই চায়। তবে বিরোধীরা যতটা সহজভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ না-ও হতে পারে।

এখনো দেশের ভেতরে মাদুরোর সমর্থক রয়েছে, যাদের অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হলে লড়াই ছাড়া সরতে চাইবেন না।

এমনকি মাদুরোর কিছু কট্টর সমালোচকও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে অস্বস্তি বোধ করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এতে দেশ আরও অস্থিতিশীল হতে পারে, আর এ কারণেই তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সমর্থন করেননি।

তবে কিছু সমালোচকের মতে, ‘কর্তৃত্ববাদী ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থা’ থেকে মুক্তির জন্য এটিই ছিল শেষ অবলম্বন।

২১: ৪৫

মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসানো যায় কি না, তা এখনই দেখতে হবে: ট্রাম্প

মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসানো যায় কি না, তা এখনই দেখতে হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, নরওয়েতে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সমর্থন দেওয়া হবে কি না, তা এখনই দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তাদের [ভেনেজুয়েলা] একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে, আপনারা জানেন। আমি জানি না, এটি কেমন ধরনের নির্বাচন ছিল, তবে মাদুরোর নির্বাচন ছিল কলঙ্ক।’

মাদুরোকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘মাদক সমস্যার কারণে আমেরিকা প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষকে হারাচ্ছে, আর আমরা এটি আর অনুমোদন করব না।’

২১: ২৩

নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে: ট্রাম্প

নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন জাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় করে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুন্দর একটি ফ্লাইটে গেছেন—আমি নিশ্চিত তাঁরা এটি উপভোগ করেছেন। তবে তাঁরা অনেক মানুষ হত্যা করেছেন, এটা মনে রাখতে হবে।’

১৯: ৪২

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ভূমিকা নেই: স্টারমার

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ভূমিকা নেই: স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাজ্য ‘কোনোভাবেই জড়িত ছিল না’। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করার আগে তিনি আরও তথ্য জানতে চান।

স্টারমার বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার বিষয়ে তিনি এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে পাঠানো রেকর্ড করা বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি এটুকু স্পষ্ট করে বলতে পারি—এই অভিযানে যুক্তরাজ্যের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।’

লেবার পার্টির বামপন্থী অংশ ও কিছু স্বতন্ত্র এমপিসহ একাধিক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে এই মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টারমার বলেন, ‘আমি আগে তথ্যগুলো নিশ্চিত করতে চাই। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চাই। মিত্রদের সঙ্গেও কথা বলতে চাই। তবে যেমনটা বলেছি, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরা এতে জড়িত ছিলাম না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি সব সময়ই বলি এবং বিশ্বাস করি—আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত।’

ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, ‘সেখানে প্রায় ৫০০ ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। তারা যেন ভালো যত্ন, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান—এ জন্য আমরা দূতাবাসের সঙ্গে কাজ করছি।’

১৮: ৫৮

মাদুরোকে মাদক ও অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করল নিউইয়র্কের আদালত

মাদুরোকে মাদক ও অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করল নিউইয়র্কের আদালত

নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে নেওয়ার পর তাকে মাদক ও অস্ত্রের মামলায় অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। আজ শনিবার নিউইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয় বলে জানান মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি।

বন্ডির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার ষড়যন্ত্র’— এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগির তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ও আদালতে আমেরিকান বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন।’ তবে মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডি বলেন, ‘এই দুই কথিত আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে আটক করার জন্য যে অসাধারণ ও অত্যন্ত সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে জন্য আমাদের সাহসী সামরিক বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ।’

১৮: ৩২

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান—সর্বশেষ যা জানা গেল

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান—সর্বশেষ যা জানা গেল

আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে ভেনেজুয়েলায় এক নজিরবিহীন ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো লাতিন আমেরিকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আমরা এই অভিযানের এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং অজানা বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরছি—

সর্বশেষ আমরা যা জানি

ট্রাম্পের ঘোষণা—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বড় মাপের হামলা’ (Large-scale strike) চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আকাশপথে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ডেল্টা ফোর্সের ভূমিকা—মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই সাড়াজাগানো অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট স্পেশাল ফোর্স ‘ডেল্টা ফোর্স’।

জরুরি অবস্থা—হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলা সরকার দেশজুড়ে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। তারা এই ঘটনাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

নিশানা—কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘ফুয়ের্তে তিউনা’, ‘লা কার্লোটা’ বিমানঘাঁটি এবং লা গাইরা বন্দরে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া গেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ—মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মাদুরো বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিচার যুক্তরাষ্ট্রেই হবে। ভেনেজুয়েলায় আর কোনো বড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

সামরিক শক্তি—এটি স্নায়ুযুদ্ধের পর আমেরিকার মাটিতে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছিল।

আমরা যা জানি না

মাদুরোর বর্তমান অবস্থান—প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে।

হতাহতের সংখ্যা—ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান ও ড্রোন হামলার ফলে ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ—কারাকাস ও তার আশপাশের অঞ্চলে বিস্ফোরণের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। শহরের বেশ কিছু এলাকা বর্তমানে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

অভিযানের নেপথ্য কারণ—মাদক পাচার বা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দোহাই দেওয়া হলেও ট্রাম্প ঠিক এই মুহূর্তে কেন এত বড় সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলেন, তার বিস্তারিত কারণ এখনো অস্পষ্ট। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ—মাদুরোর অবর্তমানে দেশটির শাসনভার কারা নেবে এবং সামরিক বাহিনী কোনো পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

কলম্বিয়া ও রাশিয়া—কলম্বিয়া এই ঘটনার পর সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে। রাশিয়া একে ‘সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

ইরান ও কিউবা—ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র ইরান এবং কিউবা এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।

১৮: ২৯

ছবিতে মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার পরবর্তী চিত্র।

১৭: ৫৩

যুক্তরাষ্ট্রেই হবে মাদুরোর বিচার, ভেনেজুয়েলায় অভিযান আপাতত শেষ: রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রেই হবে মাদুরোর বিচার, ভেনেজুয়েলায় অভিযান আপাতত শেষ: রুবিও
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে ফৌজদারি অপরাধের বিচার করা হবে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

সিনেটর লি জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় আর বড় কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আমাকে জানিয়েছেন, মাদুরো এখন মার্কিন হেফাজতে। যেহেতু তিনি আটক হয়েছেন, তাই রুবিও মনে করছেন ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’

১৭: ০৪

আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা

আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্র আসলেই ডেল্টা ফোর্স পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে থাকলে— আধুনিককালের ইতিহাসে তা হবে নজিরবিহীন ঘটনা।

তবে এর সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ হতে পারে ১৯৮৯ সালে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করার ঘটনা।

দুজনই বিতর্কিত নির্বাচনে বিজয়ের দাবি করেছিলেন, দুজনের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল এবং দুজনের ক্ষেত্রেই এর আগে উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল।

তবে নোরিয়েগাকে আটকের ঘটনা ঘটেছিল দুই দেশের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু পরিকল্পিত এক যুদ্ধের পর, যেখানে পানামার বাহিনী দ্রুত পরাজিত হয়।

নোরিয়েগা তখন ভ্যাটিকানের দূতাবাসে আশ্রয় নেন এবং সেখানে ১১ দিন অবস্থান করেন।

শেষ পর্যন্ত ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ কৌশল ব্যবহার করে— বিশেষত দ্য ক্ল্যাশ, ভ্যান হ্যালেন ও ইউটু ব্যান্ডের উচ্চ স্বরে রক সংগীত লাগাতার বাজিয়ে— তাঁকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়।

পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

নিকোলা মাদুরোকে ধরতে পরিচালিত অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি। তবে মনে হচ্ছে, এই অভিযান ছিল উচ্চাভিলাষী ও বড় পরিসরের। এখানে প্রচলিত স্থলবাহিনী ব্যবহার না করেই প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কারাগারেই গিয়ে ঠেকতে পারে।

১৬: ৫১

মাদুরোর অবস্থান অজানা, জীবিত থাকার প্রমাণ চান ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো কিংবা ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস— দুজনের কারও অবস্থানই সরকার জানে না।

অবিলম্বে তাদের দুজনের ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেন তিনি।

১৬: ৪২

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে এবং এর মাধ্যমেই মাদুরোকে বন্দী করা সম্ভব হয়েছে।

আজ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলার প্রকৃতি বা ঠিক কোন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

১৬: ৪২

কারাকাসে হামলা মার্কিন আগ্রাসন: ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলার সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে সরাসরি ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। কারাকাসের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ কবজা করার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ সাজিয়েছে। তবে তাদের সেই চেষ্টা ‘সফল হবে না’ বলেও বিবৃতিতে অঙ্গীকার করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, রাজধানী কারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একে তারা ‘চলমান সামরিক তৎপরতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মার্কিন সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএর এই বিধিনিষেধ জারির পরই কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

১৬: ৪২

ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটির কাছে একাধিক বিস্ফোরণ

ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটির কাছে একাধিক বিস্ফোরণ

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ ফুঁড়ে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সেখানে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। হামলাটি রাজধানী কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা কিংবা এর আশপাশে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, আজ শনিবার ভোরের দিকে কারাকাসের বাসিন্দারা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় তেমনটি উঠে এসেছে। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এপির দাবি, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ আর নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের আওয়াজ পাওয়া গেছে শহরটিতে। শহরের দক্ষিণাঞ্চল, যেখানে একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানকার বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আল জাজিরার কাছে আসা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার ভোরে কারাকাসের একটি জলাধারের পাশে একটি স্থাপনা থেকে আগুনের গোলা ও ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরোচ্ছে। চিলির সান্তিয়াগো থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে আল জাজিরার লুসিয়া নিউম্যান বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা বা তার ঠিক আশপাশে।