হোম > সারা দেশ > মুন্সীগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জে ৮ কোটি টাকায় নির্মিত আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিরহাট এলাকায় নির্মিত আধুনিক স্লটার হাউস। ছবি: আজকের পত্রিকা

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মুন্সিরহাট এলাকায় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক স্লটার হাউস (কসাইখানা) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন এই কসাইখানার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত হোসেন মানু ও মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, এই আধুনিক কসাইখানা শুধু কোরবানির সময় নয়, সারা বছর স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে পশু জবাইয়ের সুবিধা দেবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, কোরবানির সময় যত্রতত্র পশু জবাই ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই স্লটার হাউসে শরিয়াহসম্মত উপায়ে পশু জবাইয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হবে। সাধারণ মানুষকে এ সুবিধা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত হোসেন মানু বলেন, এত দিন পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু জবাইয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এই স্লটার হাউসে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে জবাই ও মাংস প্রস্তুতের ব্যবস্থা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব বলেন, যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আধুনিক এ কসাইখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুব্যবস্থা থাকায় পরিবেশের ক্ষতি হবে না এবং জনস্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ১৩টি জেলায় নির্মিত স্লটার হাউস প্রকল্পের অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জে এই আধুনিক কসাইখানা স্থাপন করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এখানে মাত্র ১০ মিনিটে একটি গরু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। এখানে প্রাণী গ্রহণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নির্ধারিত নিয়মে জবাই এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংস প্রস্তুতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশদূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।