ডান পায়ের বাঁকানো এক শট নিলেন সিদনি লোপেস কাবরাল। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা তো বটেই, স্বয়ং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও চমকে যান। আর্জেন্টাইনদের বিপক্ষে শেষ বত্রিশে কাবরালের সেই গোলটা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেরা গোলের স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বকাপের সেরা গোল করে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন কেপ ভার্দের এই ডিফেন্ডার।
মায়ামিতে ৪ জুলাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশে ১০৩ মিনিটে ইয়ানিক সেমেদোর পাস রিসিভ করে গোল করেন কাবরাল। ফিফা গতকাল কাবরালের গোলকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেরা গোলের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেরা গোল নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাকে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বলেন, ‘এটা পরাবাস্তব মনে হচ্ছে। আমার কাছে এটা অনেক বড় সম্মানের বিষয়। এমন স্বীকৃতি পাওয়ার স্বপ্ন সবাই দেখেন। যাঁরা আমার গোলকে টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে ভোট দিয়েছেন, প্রত্যেকের কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশে সমতাসূচক গোলের পর দৌড়ে উদযাপন করতে থাকেন কাবরাল। সতীর্থদেরও উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। সেদিনের সেই অবিশ্বাস্য গোলের বর্ণনা দিতে গিয়ে ফিফাকে গত রাতে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বলেন, ‘যখন আমি গোলটি করি, তখন শুধু দৌড়ে গিয়ে উদযাপন করতে চেয়েছিলাম। প্রিয়জনদের কাছে যেতে চেয়েছিলাম। প্রেমিকার সঙ্গে
উদযাপন করতে চেয়েছিলাম। যে সব সময় আমার পাশে থেকেছে বিশেষ করে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে।’
সেদিনের সেই গোলটা এখনো কাবরালের কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গোল আরও করতে চান বলে ফিফাকে জানিয়েছেন তিনি। কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বলেন, ‘সেই অনুভূতি ছিল অবর্ণনীয়। সবকিছু যেন খুব দ্রুত ঘটে গেল। এমনকি এখনো আমার এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এ ধরনের আরও গোল করাই এখন আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। নিজের ক্লাব ও জাতীয় দলকে ম্যাচ জেতাতে চাই। এই পুরস্কারটি পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়।’
কাবরালের দুর্দান্ত গোলের পরও সেদিন জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি কেপ ভার্দে। ১১১ মিনিটের গোলে হেরে যায় নবাগত এই দল। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে গোল করেছিলেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। তবে কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার দিনেই বোর্জেসের আত্মঘাতী গোল হিসেবে সেটা তালিকাভুক্ত হয়েছিল। ৩-২ গোলে হেরে শেষ বত্রিশেই থেমে গিয়েছিল কেপ ভার্দের পথচলা।
প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে এসেই চমকে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে শুরু করেছিল আফ্রিকা মহাদেশের দলটি। এরপর উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল কেপ ভার্দে। সৌদি আরবকেও রুখে দিয়েছিল (গোলশূন্য ড্র) কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ বত্রিশেই পথচলা থেমে গিয়েছিল কেপ ভার্দের। হারলেও আর্জেন্টাইনদের কাঁপিয়ে দেওয়ায় অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছিল আফ্রিকা মহাদেশের দলটি। দেশে ফেরার পর কেপ ভার্দে ফুটবল দলকে দেওয়া হয়েছিল রাজকীয় সংবর্ধনা।
চোখধাঁধানো গোল করেও বিশ্বকাপের সেরা একাদশে অবশ্য জায়গা করে নিতে পারেননি কাবরাল। বিশ্বকাপের একাদশে কেপ ভার্দের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ভোজিনিয়া। গত সপ্তাহে ফিফা ঘোষিত একাদশের গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে ‘চীনের মহাপ্রাচীরের’ মতো কেপ ভার্দের গোলপোস্ট আগলে নজর কেড়েছেন তিনি। যে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দে ড্র করেছিল, সেই স্পেনই হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন।