সপ্তাহখানেক ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট, রান্না ঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে প্রাণহানি বেড়ে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রামের হালিশহর আবাসিক এলাকায় একটি বাসায়। ওই দুর্ঘটনায় আজ বুধবার পর্যন্ত একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবহারকারী বা গ্রাহকের অসচেতনতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
গত সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এতে ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারের ৯ সদস্য দগ্ধ হন। এরই মধ্যে সাখাওয়াত, তাঁর স্ত্রী নুরজাহান, ছেলে সাফায়াত, ভাই সামির ও সামিরের স্ত্রী আয়েশা আক্তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি বসতবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ বুধবার চাঁদপুরের কচুয়ায় সিলিন্ডার গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। ভোররাতে সেহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রান্নাঘরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদরে গ্যাস সিলিন্ডারের একটি গোডাউনে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০টি দোকান পুড়ে যায়। তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের হালিশহরে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই এমনটা হয়েছে। সেখানে গ্যাসের লাইনে কোনো সমস্যা ছিল না। যারা ওই বাসায় থাকতেন তারা হয়তো কোনো কারণে চুলা বন্ধ করেননি। হতে পারে চুলা চালু অবস্থায় গ্যাসের চাপ কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে চাবি আর বন্ধ করা হয়নি। গ্যাস যখন এসেছে তখন তা বেরিয়ে ঘরের ভেতর জমা হয়েছে।’
অন্যান্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেকোনো ধরনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে সেই গ্যাসই বিস্ফোরণের কারণ হয়। তাই ব্যবহারকারীদের গাফিলতিই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দায়ী।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সিনিয়র স্টাফ অফিসার মো. শাহজাহান শিকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় যে সচেতনতার অভাবেই অধিকাংশ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এ ছাড়া মানসম্মত সরঞ্জাম না কেনার কারণেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় চুলার খুব কাছাকাছি স্থানে সিলিন্ডার রাখা হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ রান্নার ফলে তাপ বেড়ে গ্যাসের চাপ বেড়ে যায়। অনেক সময় হোস পাইপ বা অন্যান্য সংযোগ ডিভাইস নড়ে গিয়ে লিকেজ হয়।
মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, লম্বা সময়ের জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অনেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে যান। সে ক্ষেত্রে বাসায় ফেরার পর বৈদ্যুতিক সুইচ বা অন্য কোনো অগ্নিসংযোগের আগে দরজা-জানালা খুলে দেওয়া উচিত। বাসায় জমে থাকা গ্যাসের কারণেই অনেক সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।’
আরও পড়ুন—