শরীয়তপুরে সংগঠনের নামে অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন অটোরিকশা চালকেরা। আজ শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক অটোরিকশাচালক ও শ্রমিক অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে জেলা এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির নেতা ইমরান আল নাজির, ছাত্রদল নেতা নাজমুল মাঝি, অটোরিকশা শ্রমিক হৃদয়সহ শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা অটোরিকশা, সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এক হাজার টাকা করে আদায় করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
জেলা এনসিপির নেতা ইমরান আল নাজির বলেন, ‘শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থ জোরপূর্বক আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। শ্রমিকদের ওপর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনকে দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ছাত্রদল নেতা তাজমুল মাঝি বলেন, ‘যারা শ্রমিকদের ঘামঝরা উপার্জনের টাকা অবৈধভাবে আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
অটোরিকশাচালক হৃদয় বলেন, ‘আমরা পরিশ্রম করে পরিবার চালাই। প্রতিটি অটোরিকশা থেকে জোর করে টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
বক্তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ভবিষ্যতে কোনো শ্রমিককে হয়রানি করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা অটোরিকশা, সিএনজি ও হালকা যান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি লাভলু খান। তিনি বলেন, ‘সংগঠনের নামে কোনো অবৈধ চাঁদা আদায় করা হয় না। যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদের কাছ থেকে বৈধ ফি নেওয়া হলেও কাউকে জোরপূর্বক টাকা দিতে বাধ্য করা হয় না।’