মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার চার দিন পর এক ব্রুনেই প্রবাসীর ঝুলন্ত ও পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরি গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ইলিয়াস মাঝি (৩৮) ডহুরি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ব্রুনেই প্রবাসী ছিলেন এবং তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ইলিয়াস মাঝির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডলি বেগমের বিবাদ হয়। একপর্যায়ে ডলি বেগম রাগ করে পাশের গ্রামেই তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রীর চলে যাওয়ার পর থেকে ইলিয়াস মাঝি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে একাই অবস্থান করছিলেন। এরপর টানা চার দিন তাঁকে এলাকার কেউ বাইরে বের হতে দেখেনি।
গতকাল বিকেলে ডলি বেগম বাবার বাড়ি থেকে নিজ ঘরে ফিরে এসে দেখতে পান, বসতঘরের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির সঙ্গে রশি দিয়ে তাঁর স্বামীর মরদেহ ঝুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল বলে পুলিশ জানায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে লৌহজং থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি কোন সময়ে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।