এক জায়গায় আটকে না থেকে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাপিয়ে যেতে চান সামিউল ইসলাম রাফি। সেই লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সাঁতারে একের পর এক রেকর্ড গড়েই চলেছেন ২১ বছর বয়সী এই সাঁতারু। আজ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে একাই ৪ রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তিনি। তাঁর সামনে টিকে থাকেনি এক যুগ আগের রেকর্ডও।
মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে রাফির দিনের প্রথম রেকর্ডটি আসে ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে। ২ মিনিট ৮ দশমিক ৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্পর্শ করেন ফিনিশিং লাইন। আগের রেকর্ডটি ছিল তাঁরই, গত বছর ২ মিনিট ৯ দশমিক ৯৯ সেকেন্ডের। এরপর ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে ২৫ দশমিক ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভেঙেছেন ২০২২ সালে মাহামুদুন্নবী নাহিদের গড়া রেকর্ড।
দিনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে। ২০১৩ সালে এই ইভেন্টে ৫২ দশমিক ৮৮ সেকেন্ড টাইমিং করেছিলেন মাহফিজুর রহমান। সেই রেকর্ড রাফি ভাঙেন ৫২ দশমিক ৪২ সেকেন্ড সময় নিয়ে। ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক দিয়ে দিনের রেকর্ডের মালা শেষ করেন তিনি। ২ মিনিট ১০ দশমিক ৪৬ সেকেন্ড সময় নেন নৌবাহিনীর এই সাঁতারু।
এত রেকর্ডের মাঝেও হ্যান্ড টাইমিংয়ে সব রেকর্ড হওয়ায় দুঃখ রয়ে গেছে রাফির। তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড দিয়ে যে শুধু সঠিক টাইম নির্ণয় করা হয়—এমনটি নয়। বাইরের দেশে এখন আর কেউ হ্যান্ড টাইম গ্রহণ করে না। ইলেকট্রনিক টাইম গ্রহণযোগ্য সব জায়গায়। আমাদের অনেক স্কলারশিপ থাকে। আমি নিজেও স্কলারশিপের মধ্যে আছি। কিন্তু আমাদের টাইমিং ইলেকট্রনিক না হওয়ার কারণে আমাদের স্কলারশিপের সেই সুযোগগুলো হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।’
মিসরীয় কোচ সাঈদ ম্যাগডিকে কৃতিত্ব দিয়ে রাফি আরও বলেন, ‘উনার অধীনে আমরা উন্নতি করছি। আশা করছি, এসএ গেমসে ভালো ফল করা সম্ভব।’
রাফির চারটি ছাড়াও আজ আরও তিন ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। সেনাবাহিনীর রোমানা আক্তার একাই দুটি রেকর্ড করেছেন—২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ও ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে। এ ছাড়া ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে নৌবাহিনীর যূথী আক্তার নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে পদক তালিকায় ২০ সোনা, ১৩ রুপা ও ৭ ব্রোঞ্জ নিয়ে পদক তালিকার শীর্ষে নৌবাহিনী। ৫ সোনা, ১১ রুপা ও ১৭ ব্রোঞ্জ নিয়ে সেনাবাহিনী দ্বিতীয় এবং ২ সোনা, ৩ রুপা ও ৩ ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে তিনে রয়েছে বিকেএসপি।