ঢাকা: বাংলাদেশের হকির স্বর্ণযুগের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হকি আজ যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, স্বপ্নদ্রষ্টাও বলা যায় তাঁকে। এক প্রকার নীরবেই পৃথিবীকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ হকির কিংবদন্তি শামসুল বারী।
আজ ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত রোগে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শামসুল বারী। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। নেগেটিভও হয়েছিলেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া হয়নি। দুপুরে জোহরের নামাজের পর প্রিয় প্রাঙ্গণ মাওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে হয়েছে তাঁর জানাজা।
স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন শামসুল বারী । স্বাধীনতার পর খেলেছেন আবাহনীসহ একাধিক ক্লাবে। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ খেতাবধারী খেলোয়াড়। ১৯৭৮ সালে অবসরের হয়েছেন হকি সংগঠক।
দেশের হকি তার সেরা সময়টা পার করেছে শামসুল বারীর হাত ধরেই। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত ছিলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত রেকর্ড ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। আর্টিফিশিয়াল টার্ফ সংযোজনসহ মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের অধিকাংশ অবকাঠামো গড়ে তুলতে পরিশ্রম করে গেছেন নিরলস।
সংগঠক হিসেবে শামসুল বারী ছিলেন বড় উদার। তাঁর সময়ে খেলোয়াড়দের যেকোনো প্রয়োজনে সম্পাদকের দুয়ার সব সময় ছিল খোলা। মাঠে আসতেন সবার আগে। বের হতেন সবার শেষে। নিয়মিত লিগ আয়োজন করতেন। শামসুল বারী সরে দাঁড়ানোর পরপরই মূলত ভেঙে পড়ে হকির লিগ কাঠামো। ১৫ বছর আগে দুর্ঘটনায় হাঁটাচলা সীমিত হয়ে পড়লেও নিয়মিত খোঁজ নিতেন হকির। কিছুদিন আগে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন শোকে। এর মাঝে আক্রান্ত হলেন করোনা। এমন এক সংগঠক দেশের হকি আর পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে সাবেক খেলোয়াড়-সংগঠকদেরই।