প্রথমার্ধে শুরুতেই দেখা মিলল গোলের। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস আবারও দাপটের সঙ্গে পা রাখল ফাইনালে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
কর্দমাক্ত মাঠে ম্যাচের বয়স তখন মাত্র তিন মিনিট। ডান প্রান্ত থেকে সাদ উদ্দিনের নিখুঁত এক ক্রস খুঁজে নেয় রাকিব হোসেনকে। সেটল করা বলে রাকিবের দারুণ এক কোনাকুনি শট জালে জড়ালে লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস।
গোল হজমের পর ১৩ মিনিটেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ব্রাদার্স। কিন্তু গিনির ফরোয়ার্ড কেরফালা কৌয়াতে মিডফিল্ডার মোলতাজিমের ক্রস থেকে পাওয়া সহজ হেডটি পোস্টের বাইরে মারলে সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। কিংসও ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে বারবার। ২১ মিনিটে তাদের একটি আক্রমণ রুখে দেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক ইসহাক আকন্দ। ২৮ মিনিটে দোরিয়েলতন গোমেজের দর্শনীয় এক বাইসাইকেল কিক জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এর মিনিট দুয়েক পর দোরিয়েলতনের একটি ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
মাঝেমধ্যে ব্রাদার্স পাল্টা আক্রমণ শানালেও কিংস গোলরক্ষক মেহেদী হাসানের দেয়াল টপকাতে পারেনি। ২৪ মিনিটে পাকিস্তানি উইঙ্গার শায়েক দোস্তের ফ্রি-কিক লাফিয়ে উঠে প্রতিহত করেন মেহেদী। ৩৫ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়েও স্যামুয়েল চিগোজির দুর্বল শট অনায়াসেই তালুবন্দী করেন কিংস গোলরক্ষক। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে দোরিয়েলতন গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করলে ১-০ ব্যবধানেই প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। একের পর এক আক্রমণে তারা কিংস রক্ষণকে চাপে রাখলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে কিংস পুনরায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ৭১ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দোরিয়েলতন। ২ মিনিট পর আবারও দোরিয়েলতন উচ্ছ্বাসে ভাসান কিংসকে। শাহরিয়ার ইমনের পাসে ব্রাদার্স গোলরক্ষককে বোকা বানাতে কোনো কষ্ট হয়নি তাঁর। ফেডারেশন কাপে এটি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নবম গোল।
৮৮ মিনিটে দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন বদলি নামা সাব্বির হোসেন। এই জয়ে ফাইনালে উঠে গেল কিংস। তবে ব্রাদার্সের জন্য ফাইনালে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ আছে। আগামী মঙ্গলবার কুমিল্লায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মাঠে নামবে তারা।