গ্রীষ্মের তাপ খুব দ্রুত আমাদের শক্তি নিঃশেষ করে দিতে পারে। ফলে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনগুলোয় শরীর ক্লান্ত, পানিশূন্য ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কিন্তু তাপমাত্রা বেশি হলে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়, এমন সময়েই হাইড্রেটিং ড্রিংকস পান করতে হয়। এ ধরনের পানীয় ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ এবং শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
হাইড্রেটিং ড্রিংকস হলো এমন পানীয়, যা ঘামের মাধ্যমে হারানো তরল, ইলেকট্রোলাইট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পুনরুদ্ধারের জন্য পান করা হয়। এগুলো সাধারণ পানির মতো নয়। এগুলোতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বা অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান থাকে, যা শরীরে আরও কার্যকরভাবে পানি, ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য তৈরিতে সাহায্য করে।
শরীর শীতল করা থেকে শুরু করে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা, কিছু পানীয় সবকিছুই করতে পারে। এগুলো শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, বরং গরমে হারানো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পুনরায় পূরণ করতে সাহায্য করে।
ডাবের পানি
প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়ামের মতো উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ডাবের পানি তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরিয়ে আনতে অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক হাইড্রেটিং ড্রিংক। এটি দ্রুত শরীরের তরলের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে; বিশেষ করে ঘাম বা রোদে পোড়ার পরে এটি পান করলে আরামবোধ হয়।
লেবুর পানি
খুব সহজে তৈরি করা যায় এই শক্তিশালী পানীয়। লেবুর পানি শরীর ডিটক্সিফাই করতে এবং ভিটামিন সি গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করে। এটি খাবার হজমেও সহায়তা করে এবং সারা দিন সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখে।
তরমুজের রস
উচ্চ জলীয় উপাদানের কারণে তরমুজের রস শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও সরবরাহ করে, যা আপনার শরীর সতেজ ও শক্তিতে ভরপুর রাখতে সাহায্য করে।
শসা-পুদিনা মেশানো পানি
হালকা, শীতল এবং সতেজ এই পানীয় শরীর ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে এবং শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। সারা দিনে বিভিন্ন সময়ে পান করার জন্য এটি চমৎকার পানীয়।
অ্যালোভেরার রস
এটি এর প্রশান্তিদায়ক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। অ্যালোভেরার রসের উপকারিতার মধ্যে রয়েছে খাবার হজম এবং শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখে। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অ্যালোভেরার রস মেশানো পানি পান করতে পারেন।
নারকেল-লেবুর ইলেকট্রোলাইট পানীয়
শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া খনিজ এবং লবণের ঘাটতি পূরণ করে এই পানীয়। তাই ব্যায়ামের পরে বা বাইরে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর এটি পান করা ভালো। এটি কার্যকরভাবে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা গ্রিন টি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই পানীয় শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। গ্রীষ্মের দুপুরে ঠান্ডা বা বরফ দেওয়া গ্রিন টি পান করতে পারেন।
চিয়া বীজ ভেজানো পানি
চিয়া বীজ ভেজানো পানির একটি উপকারিতা হলো, এটি পানি শোষণ করে এবং ফুলে ওঠে, যা আপনার শরীর দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এটি আপনার পানীয়তে আঁশ এবং ওমেগা-৩-এর উপকারিতা যোগ করে।
আখের রস
প্রাকৃতিক শক্তিবর্ধক হিসেবে আখের রস শরীর তাৎক্ষণিকভাবে ঠান্ডা করতে সহায়ক। এটি প্রাকৃতিক শর্করা এবং খনিজে সমৃদ্ধ, যা ক্লান্তি ও পানির ভারসাম্যহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
সকালে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে ব্যায়ামের আগে ও পরে, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার পরে, ঘাম ঝরানোর পর বা বাইরের কোনো কাজের পর, দিনের মাঝামাঝি সময়ে শক্তি কমে যাওয়া রোধ করতে, গরম আবহাওয়ায় ভ্রমণের সময় এ ধরনের পানীয় পান করা উচিত।
সূত্র: বি বিউটিফুল
ছবি: পেক্সেলস