হোম > ইসলাম

আপনার জিজ্ঞাসা

সহবাসের কতক্ষণ পর ফরজ গোসল করতে হয়?

মুফতি শাব্বীর আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: সহবাসের পর ফরজ গোসল করার ব্যাপারে শরিয়তের নির্দেশ কী? সহবাসের কতক্ষণ পর গোসল করা বাধ্যতামূলক এবং দেরি করার বিধান কী—এ বিষয়ে সঠিক নিয়ম জানালে উপকৃত হব।

মাইনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

উত্তর: ইসলামি শরিয়তে সহবাসের পর গোসল করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা—যেমন: এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তবে নিয়ম হলো, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হওয়ার আগেই গোসল করে পবিত্র হওয়া ফরজ। নবী করিম (সা.) এবং সালফে সালেহিনের আমল অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নেওয়াটাই সুন্নাহ এবং সর্বোত্তম।

অনেকে গোসল করতে দেরি হওয়ার অজুহাতে নামাজ কাজা করেন। ফরজ গোসল কখনোই নামাজ কাজা করার বৈধ কারণ হতে পারে না। যদি প্রচণ্ড শীত বা অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহার অসম্ভব হয়, তবে তায়াম্মুম করে হলেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ কাজা করা কবিরা গুনাহ।

যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়

একজন মুসলিমের ওপর মূলত নিচের কারণগুলোতে গোসল করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ হয়ে যায়:

  • ১. সহবাস: স্বামী-স্ত্রীর মিলনে বীর্যপাত হোক বা না হোক, উভয়ের ওপর গোসল ফরজ। (বুখারি ও মুসলিম)।
  • ২. স্বপ্নদোষ: ঘুমের ঘোরে উত্তেজনা অনুভব হোক বা না হোক, যদি পোশাকে নাপাকির চিহ্ন পাওয়া যায়।
  • ৩. বীর্যপাত: জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে বীর্য বের হলে।
  • ৪. মাসিক (হায়েজ) : মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর।
  • ৫. নিফাস: সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব বন্ধ হলে।
  • ৬. ইসলাম গ্রহণ: কোনো অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে গোসল করা বাধ্যতামূলক।
  • ৭. মৃত্যু: কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল দেওয়া জীবিতদের ওপর দায়িত্ব।

অপবিত্র অবস্থায় যেসব কাজ করা নিষেধ

গোসল ফরজ হওয়ার পর পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা শরিয়তে নিষিদ্ধ: এক. নামাজ আদায় করা। দুই. পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা অথবা তিলাওয়াত করা। তিন. কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। চার. মসজিদে প্রবেশ করা বা অবস্থান করা।

ফরজ গোসল না করে কি প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়?

অনেকে মনে করেন গোসল ফরজ হলে ঘরদোর ছোঁয়া বা ঘরের কাজ করা যাবে না—এটি একটি ভুল ধারণা। এ বিষয়ে হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাত (গোসল ফরজ) অবস্থায় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নবীজি (সা.) তাঁকে দেখে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, মুমিন কখনো (সত্তা হিসেবে) নাপাক হয় না।’ (সহিহ বুখারি: ২৭৯)

গোসল করতে দেরি হলে ঘুমানোর বা পানাহারের আগে হাত-মুখ ধুয়ে নামাজের মতো অজু করে নেওয়া সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাবাত অবস্থায় ঘুমানোর বা খাওয়ার আগে অজু করে নিতেন। (সহিহ মুসলিম: ৩০৫)

এ ছাড়া নারীদের ঋতুস্রাব বা সহবাসের পর অপবিত্র অবস্থায় রান্নাবান্না বা ঘরের কাজ করা যাবে না—এমন বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। এটি একটি কুসংস্কার।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বীর আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

সুরা কাফিরুনের অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত

সুরা নাসরের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপট

শবে বরাত ক্ষমা ও মুক্তির রাত

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও সতর্কতা

কোরআনে বর্ণিত সব ফল চাষ হচ্ছে যেখানে

সুরা মাউন অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও শানে নুজুল

আত্তাহিয়াতু: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও প্রাসঙ্গিক ইতিহাস

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

সুরা কুরাইশের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও শানে নুজুল

সুরা লাহাব: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও শানে নুজুল