বিশ্বসংগীত
বছরের পর বছর অপ্রকাশিত গান ফাঁসের শিকার হয়ে অবশেষে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিলেন গ্র্যামিজয়ী সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্ডে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে অজ্ঞাতনামা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। শুধু গান নয়, অপ্রকাশিত বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওর ফুটেজ ও ফটোশুটের ছবি চুরিরও অভিযোগ এনেছেন আরিয়ানা।
বিবিসি ও বিলবোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিয়ানার অভিযোগ—হ্যাকাররা একাধিকবার তাঁর কাজের সঙ্গে যুক্ত সংগীত প্রযোজক, আলোকচিত্রী এবং টিমের অন্য সদস্যদের ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা চালিয়ে এসব কনটেন্ট চুরি করেছে। তারপর সেসব গান, ছবি ও ভিডিও ডার্ক ওয়েবে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেছে। এতে তাঁর ক্যারিয়ারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরিয়ানা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সংগীত ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে আরিয়ানা গ্রান্ডে বারবার এই হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ পর্যন্ত তাঁর শত শত কনটেন্ট চুরি হয়েছে। ২০১৯ সালে আরিয়ানার সঙ্গে কাজ করা এক আলোকচিত্রীর ড্রপবক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাঁর অপ্রকাশিত ছবি চুরি করে হ্যাকাররা। ২০২০ সালে এক সংগীত প্রযোজকের মোবাইল ফোন হ্যাক করে আরিয়ানার অপ্রকাশিত ডেমো গান, মাস্টার ট্র্যাক এবং স্টুডিওতে গান রেকর্ড করার সময়ের ভিডিও চুরি করে নেওয়া হয়।
২০২৩ সালে আরও বড় জটিলতার মুখে পড়তে হয় আরিয়ানাকে। এই এক বছরেই তাঁর ৪৫টি অপ্রকাশিত গান ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে ফিশিং স্ক্যামের মাধ্যমে আলোকচিত্রীদের বোকা বানিয়ে আরিয়ানার দুটি পৃথক ফটোশুটের অপ্রকাশিত ছবি হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।
আরিয়ানা গ্রান্ডের লিগ্যাল টিম জানিয়েছে, আড়ালে থাকা হ্যাকারদের আসল পরিচয় উন্মোচন করতেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন গায়িকা। এ ধরনের চুরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে নিজের এবং অন্যান্য শিল্পীর কনটেন্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান আরিয়ানা।