মৃত্যুর পর উত্তর-পূর্ব ভারতের মাটি, প্রকৃতি আর মানুষের আবেগের সঙ্গে যেন আরও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে জুবিন গার্গের স্মৃতি। এর আগে প্রজাপতি, গাছ এবং হস্তীশাবকের নামের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়েছে আসামের এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে। এবার শিলংয়ে আবিষ্কৃত একটি নতুন প্রজাতির লিলি ফুলের নাম রাখা হয়েছে জুবিন গার্গের নামে।
মেঘালয়ের শিলংয়ে বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে ২০১৮ সালে এই ফুল প্রথম শনাক্ত করেন গবেষকেরা। কয়েক বছর ধরে এই উদ্ভিদের ওপর শ্রেণিবিন্যাস-সংক্রান্ত গবেষণা চালান তাঁরা। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি।
যদিও ফুলটির প্রকৃত উৎস বা বিস্তারের ইতিহাস সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য তথ্য মেলেনি। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফুলটির রং ঘিয়ের মতো হালকা, পরাগধানী উজ্জ্বল হলুদ এবং বৃন্তে রয়েছে সূক্ষ্ম রোম, যা একে অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করেছে।
গবেষকেরা মিষ্টি সুবাসের এই ফুলের নামকরণ করেছেন ‘হেডিচিয়াম জুবিনগারগিয়েনাম’। তাঁরা জানান, ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্রে জুবিন গার্গের অসামান্য অবদানের পাশাপাশি প্রকৃতি, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে নামটি নির্বাচন করা হয়েছে।
জুবিন গার্গের নামে উদ্ভিদ প্রজাতির নামকরণ করার ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে আসামের মানস ন্যাশনাল পার্কের তৃণভূমি থেকে আবিষ্কৃত একটি ফুলগাছের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অসবেকিয়া জুবিনগারগিয়ানা’। গত মার্চে একটি বিরল প্রজাতির প্রজাপতির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছিল ‘ইউথালিয়া জুবিন গার্গ’। এ ছাড়া কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে জন্ম নেওয়া একটি হস্তীশাবকের নামও রাখা হয়েছিল জুবিনের জনপ্রিয় গান ‘মায়াবিনী’র নামে। সংগীতের সীমানা পেরিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের মধ্যে জুবিন গার্গের নাম এভাবেই অম্লান হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তাঁর অনুরাগী ও পরিবেশবিদেরা।