বলিউড ছেড়েছেন অনেক আগেই। প্রচারের আলো ও বাণিজ্যিক গণ্ডি থেকে দূরে গিয়ে শান্ত, স্বাধীন ও যাযাবর জীবনযাপন বেছে নিয়েছেন লাকি আলী। তবে স্বাধীনভাবে এখনো সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দেশ-বিদেশে নিয়মিত কনসার্টে তাঁর দেখা মেলে। সম্প্রতি এক কনসার্টে প্রিয় শিল্পীর মুখে তাঁর মৃত্যুভাবনা শুনে আবেগে ভেসেছেন ভক্তরা।
লাইভ কনসার্টে গান গাইতে গাইতে হঠাৎই লাকি আলী কথা বলেন মৃত্যুর প্রসঙ্গে। আবেগঘন কণ্ঠে ৬৭ বছর বয়সী এই শিল্পী জানান, মৃত্যুর জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি কোথাও ভ্রমণে বের হলে সব সময় নিজের সঙ্গে কাফনের কাপড় রাখেন তিনি।
কনসার্টে ভক্তদের ভালোবাসার জবাবে লাকি আলী বলেন, ‘আমিও তোমাদের সবাইকে ভীষণ ভালোবাসি। একদিন আমাদের সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করছি না, তবে সত্যি বলতে আমি নিজে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি যখনই কোথাও ভ্রমণে বের হই, আমার এহরামের কাপড় সঙ্গে রাখি, যেটা জড়িয়ে আমাকে দাফন করা হবে। আমি যেখানেই মারা যাই না কেন, সেখান থেকেই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে বিদায় নিতে পারি।’
প্রিয় শিল্পীর এই কথা শুনে কনসার্টে উপস্থিত ভক্তরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কনসার্টের এই ভিডিও লাকি আলী নিজেই ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। ভিডিওটির কমেন্ট বক্স উপচে পড়েছে ভক্তদের গভীর ভালোবাসা আর উদ্বেগে। ভক্তরা তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের প্রার্থনা জানিয়ে নিজেদের জীবনে লাকি আলীর গানের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের ইন্ডি-পপ ও বলিউডের মেলোডি গানে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেন লাকি আলী। ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুনো’ প্রকাশিত হয়। এ অ্যালবামের ‘ও সানাম’ গানটি তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে ‘সিফার’, ‘গোরি তেরি আঁখে’, ‘কাভি অ্যায়সা লাগতা হ্যায়’সহ প্রায় সব অ্যালবাম জনপ্রিয়তা পায়।
বলিউডের প্লেব্যাকেও তিনি ছিলেন সমান সফল। ‘এক পল কা জিনা’, ‘না তুম জানো না হাম’, ‘আ ভি জা’, ‘জানে ক্যায়া ঢুন্ডতা হ্যায়’, ‘আহিস্তা’, ‘সফরনামা’র মতো কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। তবে ২০১৫ সালের পর প্লেব্যাক থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে স্বাধীন সংগীতে মন দেন লাকি আলী।
কারণ হিসেবে এক সাক্ষাৎকারে লাকি আলী জানিয়েছিলেন, বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজের একঘেয়েমি ও বাবার (কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদ) মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া শূন্যতার কারণেই ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখানে তাঁর আর করার মতো কিছুই ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশের সঙ্গেও খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না।