রংপুরের গঙ্গাচড়ায় টানা বৃষ্টিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। বুড়িরহাট থেকে লালমনিরহাটের কাকিনা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের ১৫-২০টি স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর-দ্বিতীয় তিস্তা সেতু-কাকিনা সড়কটি বুড়িরহাট-মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভান্ডার পেরিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে গিয়ে মিলেছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের নিচের অংশ ধসে পড়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।
হাতীবান্ধা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি আগে ভালোই ছিল। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন অবস্থা হয়েছে। রোগী নিয়ে চলাচল করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। কিছু সময় গুরুতর রোগী থাকলে ঝুঁকি নিয়েই গাড়ি চালাতে হয়। সড়কে এভাবে ভাঙাচোরা থাকলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’
সেতু এলাকার বাসিন্দা মাহামুদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের এই সড়কগুলো বালুর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের পানি নেমে যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেই, ফলে বৃষ্টি হলেই বালু সরে গিয়ে সড়ক ভেঙে যায়। যদি কিছু দূর পরপর ড্রেনেজব্যবস্থা করা যেত, তাহলে এভাবে ক্ষতি হতো না। এবার সংস্কারের পাশাপাশি যেন সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়।’
পথচারী আসাদুজ্জামান বলেন, এই কয়েক দিনেই সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল। বৃষ্টির কারণে কয়েক জায়গায় ধসে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আরেকটু বেশি বৃষ্টি হলেই সড়কের আরও বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে।
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, এটি রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের নিচের অংশ ধসে গেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।