রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি অ্যাম্বুলেন্সচালক চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এই চক্রটি রমেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যবহার করতে বাধ্য করছিল বলে অভিযোগ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ওমেদ আলী, রানা মিয়া, রাজু মিয়া, বিপ্লব মিয়া, ফরহাদ হোসেন, আরাফাত হোসেন আপেল ও মারুফ হোসেন। গতকাল শনিবার পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ ধরনের চক্র রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অধিক ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে বাধ্য হন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে রমেক হাসপাতালের আশপাশে অবস্থান করে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে তারা স্বজনদের বিভ্রান্ত করে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যবহারে চাপ প্রয়োগ করে। একই সঙ্গে বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে রোগী ও তাদের স্বজনেরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি শুরু করে। পরে গতকাল শনিবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালি, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং জনভোগান্তি সৃষ্টিকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।