দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ৩৭ যাত্রী। বাস থেকে নেমে যাওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই সেটি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে হতবাক হন তাঁরা। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসনের নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত না থাকলে আজ শুক্রবারের এই ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।
কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী টিউলিপ বলেন, ‘ফেরিতে ওঠার আগে আমাদের সবাইকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আমি নামার পরে দেখি, বাসটি অস্বাভাবিক গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ হেলপারকে পন্টুনে লাফ দিতে দেখি আর পরক্ষণেই বিকট শব্দ করে বাসটি পানিতে পড়ে যায়। আমরা বড় একটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। দুই মিনিট আগে বাস থেকে নেমেছি, এরপরই চোখের সামনে পদ্মায় ডুবে গেল বাসটি।’
কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রী আহাদ আলী বলেন, ‘মার্চ মাসের বাসডুবির ঘটনার পর নিরাপত্তার জন্য আমাদের বাস থেকে নামানো হয়। তখন হয়তো বিষয়টি অনেকের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছিল। কিন্তু আজ বুঝলাম, ওই সিদ্ধান্তই আমাদের জীবন বাঁচিয়েছে। আমরা হেঁটে আসতেই দেখলাম বাসটি দ্রুতগতিতে পদ্মায় পড়ে গেল।’
বাসে থাকা এক যাত্রীর স্বজন বলেন, ‘আমি মোটরসাইকেলে ছিলাম আর আমার স্ত্রীকে এসবি সুপার ডিলাক্স বাসে তুলে দিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, একটি বাস নদীতে পড়ে গেছে। সেই মুহূর্তটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সময় ছিল। সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীকে ফোন করি। যখন জানতে পারি সে বাস থেকে নেমে নিরাপদে আছে, তখন মনে হয়েছে, সৃষ্টিকর্তা তাকে নতুন জীবন দিয়েছেন।’
যাত্রীদের ভাষ্য, ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নৌ পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে আজকের এই দুর্ঘটনা প্রাণহানির ঘটনায় রূপ নেয়নি।