মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিশুকচালকের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে দুর্ঘটনায় জড়িত ডাম্পট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ডাম্প ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া গ্রাম থেকে ডাম্পট্রাক চালক ইয়াসিন শেখকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দক্ষিণ লতব্দী গ্রামে হাফেজ ফজলুল হক চেয়ারম্যানের ফ্যাক্টরির সামনে পাকা সড়কের পাশ থেকে নুরুল ইসলাম (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের একটি পা ভাঙা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ুরুল ইসলাম উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চর গুলগুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি মিশুকচালক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই কফিল উদ্দিন বাদী হয়ে রোববার (১২ জুলাই) রাতে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিনদুপুর দেড়টার দিকে নুরুল ইসলাম মিশুক (অটোরিকশা) নিয়ে কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপাড়া আন্ডারপাস এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ডাম্পট্রাক চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাকচালক তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে ট্রাকে তুলে নিলেও পরে দক্ষিণ লতব্দী গ্রামে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর সিরাজদিখান থানা-পুলিশ নিহতের ব্যবহৃত মিশুকটি উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানায় সংরক্ষণ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকা থেকে ডাম্পট্রাক চালক ইয়াসিন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লতব্দী ইউনিয়নের ইকো সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনে থেকে ডাম্পট্রাকটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করেছে। অভিযুক্ত ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান।