বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রী, শাশুড়ি ও এক ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম (১৯) ও শাশুড়ি আফরোজা বেগম মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রহমত মিয়া।
আজ সোমবার সকালে মহম্মদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন রহমত মিয়া।
সাদিয়া ইসলামের দাবি, ২০২৫ সালে তাঁর অনুমতি না নিয়েই রহমত এক ভারতীয় নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। ঘটনার দিন কন্যাসন্তানকে ঘুরিয়ে আনার কথা বলে রহমত শিশুটিকে নিয়ে যান। পরে সন্তানকে ফেরত আনতে সাদিয়া, তাঁর মা আফরোজা বেগম এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগম রহমতের বাড়িতে গেলে গেটে তালা লাগিয়ে তাঁদেরকে মারধর করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “বাড়ির দুই গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে রহমত আমার গলা চেপে ধরে। আমি গোপনে আমার স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। পরে তাঁর সহযোগিতায় পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।” তিনি আরও জানান, রাতেই আহত অবস্থায় সাদিয়া ও আফরোজা বেগমকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু আহসান জানান, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সাদিয়া ইসলামের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক জটিল ছিল। তিনি তীব্র আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। অন্যজনের আঘাত সাধারণ প্রকৃতির।
এদিকে আজ মহম্মদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রহমত মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা যৌতুক, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ মিথ্যা। তাঁর দাবি, সন্তানকে জোর করে নেওয়া হয়নি; সাদিয়াই স্বেচ্ছায় রেখে গিয়েছিলেন। ঢাকায় ফ্ল্যাট দাবির পাশাপাশি তাঁর সম্মানহানি করতেই এই “মিথ্যা নাটক” সাজানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রহমত মিয়া আরও বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি এক ভারতীয় নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন,`খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করেছে। এটি মূলত পারিবারিক বিরোধ। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'