ফিফা বিশ্বকাপ উন্মাদনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। আজ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিশাল পতাকা র্যালি তো কাল ব্রাজিলের পতাকা নিয়ে সমর্থকদের হলুদ-সবুজের শোডাউন। জার্মান সমর্থকেরাইবা পিছিয়ে থাকবেন কেন? মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাই সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা প্রদর্শন করে নজর কেড়েছেন ফুটবলপ্রেমী কৃষক আমজাদ হোসেন।
আজ বুধবার সকালে দীর্ঘ এই জার্মান পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করেছেন তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে পতাকাটির দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটারে নেওয়ার আশা করছেন তিনি।
মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বয়স ৭০। জার্মানির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা থেকে প্রায় এক যুগ আগে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুরু করেন তিনি।
পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক আমজাদ হোসেনের ভাষ্য, একসময় জার্মানির তৈরি ওষুধ খেয়ে তিনি একটি জটিল রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে দেশটিকে একটি উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই বছরই তিনি প্রথম ৩৫০ গজ লম্বা জার্মান পতাকা তৈরি করেন।
এর পর থেকে প্রতি আসরেই নিজের জমানো টাকা দিয়ে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে আসছেন আমজাদ হোসেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে ও নিজের ১০ শতক জমি বিক্রি করে তিনি পতাকাটি আরও বড় করেন। আর এবার পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে।
আমজাদ হোসেন জানান, ভালোবাসা থেকেই এগুলো করেছেন। এবারের সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকাটি জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এটি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও তাঁর দীর্ঘদিনের ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হয়ে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
আমজাদ হোসেনের এই উদ্যোগ অতীতেও জার্মান দূতাবাসের নজরে আসে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তাঁর পতাকা উদ্বোধন করেন এবং জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি জার্মান ফুটবল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ লাভ করেন।
২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর পতাকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার প্রদর্শনীটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আমজাদ হোসেনের এই একনিষ্ঠ ভালোবাসার কারণে তাঁদের প্রত্যন্ত গ্রামটি সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে। তাঁদের মতে, কোনো দেশ ও সেই দেশের ফুটবল দলের প্রতি এমন ভালোবাসা বিরল।