গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অভিনব কায়দায় চুরি হচ্ছে পোস্টপেইড ডিজিটাল বৈদ্যুতিক মিটার। প্রথমে মিটার চুরি করে ঘটনাস্থলে সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি মোবাইল নম্বর-সংবলিত ছোট্ট কাগজ। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে চুরি যাওয়া মিটার ফেরত দেওয়ার কথা বলে মালিকের কাছে দাবি করা হচ্ছে টাকা।
এ ঘটনায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে সুন্দরগঞ্জের চালকলমালিকদের।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ ও শান্তিরাম ইউনিয়নের কয়েকটি চালকল থেকে পোস্টপেইড ডিজিটাল বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে। চুরি হওয়ার পরদিন মালিকেরা তাঁদের ব্যবসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, মিটার নেই। তবে মিটারের স্থানে মোবাইল নম্বর-সংবলিত এক টুকরা সাদা কাগজ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে চুরি যাওয়া মিটার তাদের কাছেই আছে বলে জানানো হয়। তবে সেই মিটার ফেরত পেতে হলে টাকা পাঠাতে হবে বিকাশে। মিটারের মালিকেরা টাকা পাঠালে শুরু হয় টালবাহানা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিটি চুরি হওয়া মিটারের স্থানে একই কায়দায় মোবাইল নম্বর লেখা স্লিপ রেখে যাওয়ার ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। দ্রুত চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্যবসায়ী একই ধরনের প্রতারণার শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিলমালিকেরা সুন্দরগঞ্জ থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী চালকলমালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চুরি হওয়ার পরদিন সকালে গিয়ে দেখি, মিটার নেই। তবে সেখানে সাঁটানো হয়েছে মোবাইল নম্বর-সংবলিত এক টুকরো সাদা কাগজ। সেই নম্বরে কল দিলে তারা বিকাশে টাকা দাবি করে মিটার ফেরত দিতে। চোরদের কথামতো বিকাশে টাকাও পাঠিয়েছিলাম। মিটার কোথায় রাখা হবে, তা টাকা পেলেই জানাবেন বলে জানিয়েছিল তারা। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আবারও আরও টাকা দাবি করে। তখন বুঝতে পারি, এটি মিটার চুরির আড়ালে পরিকল্পিত প্রতারণা। সে কারণে আর যোগাযোগ করিনি। পরে অভিযোগ করেছি।’
কথা হয় আরেক ভুক্তভোগী মো. আবদুর রউফ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মিটার না থাকায় কয়েক দিন ধরে মিলের কার্যক্রম বন্ধ আছে। নতুন মিটার নিতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। একদিকে ব্যবসায় লোকসান, অন্যদিকে প্রতারকদের হুমকি—সব মিলিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।’
এ বিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর (সুন্দরগঞ্জ) উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘এ পর্যন্ত এ ধরনের ৫টি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। মোবাইল নম্বরগুলোও পুলিশের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’