ঢাকার সাভারে সাবরেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে পুনরায় তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ রোববার অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে আসেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনুদ্দিন কাদির।
সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে তদন্তকালে মো. মঈনুদ্দিন কাদির ভুক্তভোগী, দলিল লেখক, সাংবাদিক, অভিযুক্ত সাবরেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাক্ষ্য নেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাজধানীর লালবাগ এলাকার আজিমপুর রোডে জাকির হোসেনের একটি ফ্ল্যাট ও দামি গাড়ি আছে। এসব সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও সরকারি দপ্তরের চিঠিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি কর কমিশনের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মনিরা সুলতানার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। তবে পরে সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনুদ্দিন কাদির বলেন, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, একই ধরনের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুন মাসে সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। ওই সময় আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মাহবুবুর রহমান তদন্ত করলেও পরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।