ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু এক শিশু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় মৃত্যুর ঘটনায় আটক হাসপাতালের কর্মচারী মো. এনায়েত করিমকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুর পরিবার এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে এনায়েত করিমকে আটক রাখা হলেও পরে পরিবারের লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আজ বুধবার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনমথ হালদার বলেন, ‘মৃত শিশুটির পরিবার ঘটনার পরপরই হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সামনে সাংবাদিকদের কাছে ব্যাপক অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে পুলিশের কাছে তারা কোনো অভিযোগ করেনি। পরে শিশুটির পরিবার একটি লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছে যে, এই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। এই লিখিত স্টেটমেন্টর কারণে হাসপাতালের সেই সরকারি কর্মচারী এনায়েত করিমকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
মারা যাওয়া শিশুটির নাম হাসিব আহমেদ মিনহাজ। তার বয়স ছিল সাত মাস।
শিশুটির বাবা হেলাল মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাঁদের একমাত্র সন্তান মিনহাজ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনার পর মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সরাসরি ভর্তি না নিয়ে সেখানকার চিকিৎসকেরা বলেন, ওয়ার্ডে গিয়ে বেড খালি আছে কি না তা জানতে। তবে সিট নেই জানিয়ে হাসপাতালের কর্মচারী এনায়েত করিম তাঁদের কাঁটাবনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হেলাল মিয়ার দাবি, অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছিলেন, শিশুটির অক্সিজেন মাস্ক দুই মিনিটের জন্যও খোলা যাবে না। কিন্তু হাসপাতাল কর্মচারী শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় মাস্ক খুলে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা এনায়েত করিমকে ধরে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যান। তবে পরে পরিবার অভিযোগ না করায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।