এনআরবি ব্যাংকের ঋণখেলাপির দুই মামলায় করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট কেলেঙ্কারিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৪-এর বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন পৃথক এই আদেশ দেন। সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে এনআরবি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ নেন সাহেদ। এ ছাড়া, সাহেদের নামে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ক্রেডিট কার্ড সুবিধাও নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনেও ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে এনআরবি ব্যাংক দুটি মামলা করে। এই মামলায় সুদ-আসল মিলিয়ে ব্যাংক প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা পাওনা হয় সাহেদের কাছে। আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন। পরে মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
সাহেদের আইনজীবী জানান, আজ দুটি মামলায় জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের বিধান অনুযায়ী ঋণের দাবি করা অর্থের ২৫ শতাংশ জমা দিতে না পারায় আদালত তাঁকে জামিন না দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।
চেক প্রতারণার এক মামলায় সাহেদকে ২০ জুলাই কারাগারে পাঠান ঢাকার একটি আদালত। ওই দিন এই মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে ওই দিন দুপুরে মিরপুরের ইসিবি এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনা মহামারির সময় সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় র্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। রোগীদের কোনো রকম করোনা পরীক্ষা না করেই হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার এবং সরকার ও রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর অফিসে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছিল। পরে সবকটি মামলায় জামিন পেয়ে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
আরও উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে। ওই মামলায় ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। যাবজ্জীবন দণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সাহেদ হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের শুরুতে হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই রায় স্থগিত করে দেন।