কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ঘুষ দাবির অভিযোগে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সদ্য বদলি হওয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমদসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা বিশেষ জজ আদালতে ভুক্তভোগী অধ্যাপক আখতার আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম মামলাটি আমলে নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথিপত্র তলব করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগী আখতার আলম কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে ও নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২০১৯ সালে মহেশখালীর জনৈক ছৈয়দ নুর নামের এক ব্যক্তিকে আখতার আলম ১৫ লাখ টাকা ধার দেন। এ টাকা দিতে গড়িমসি করার একপর্যায়ে ২০২১ সালে ছৈয়দ নুরের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে চেক প্রতারণার মামলা করেন আখতার আলম। ২০২২ সালে আদালত বিবাদী ছৈয়দ নুরের বিরুদ্ধে টাকা ফেরতের আদেশ দেন। একই বছরে বিবাদী ছৈয়দ নুরের মৃত্যু হয়।
এরপর আখতার আলম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদী ছৈয়দ নুরের অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত জেলা প্রশাসক ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে আখতার আলমের পাওনা টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন।
বাদী আখতার আলমের অভিযোগ, ২০২৪ সালে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমদ পাওনা টাকার চেক না দিয়ে আটকে রাখেন। এই অবস্থায় ২০২৪ সালে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলে পুনরায় টাকা ফেরতের জন্য জেলা প্রশাসককে আদেশ দেন। এরপর নিজাম উদ্দিন আহমদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
বাদীর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারকের কাছে আজ পুনরায় পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আবেদন করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দিয়েছেন।