হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বাবাকে খুঁজে পেতে হাসপাতালে সাত মাসের ফাইজা

তাসনীম হাসান, চট্টগ্রাম

ডিএনএ নমুনা দিতে এসে ফুপির কোলে বসে স্বভাবসুলভ খেলছিল ফাইজা রহমান। কখনো সামনে থাকা কলম নিয়ে আঁকা আঁকি করছিল। কখনো ফুপির হাত ধরে হাসছিল। বাবার অন্তিত পরিণতি সম্পর্কে এখনো যে জানার বয়স হয়নি শিশুটির। একটু পরেই নমুনা হিসেবে তার মুখের লালা নেওয়া হয়। এটাতেও মজা পাচ্ছিল সে। পাশে দাঁড়িয়ে তখন চোখের জল ফেলছিলেন ফাইজার মা ইস্ফাহান সুলতানা। 

ফাইজার বাবা আবদুস সোবহান সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যে ডিপোতে শনিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। বাকিরা একটু বেশিই দগ্ধ হওয়ায় তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের মধ্যে আবদুস সোবহানও আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি তাঁদের স্বজনদের নমুনা নেওয়া হচ্ছ। 

আবদুস সোবহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোবহানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেখানে কোনো খোঁজ মেলেনি সোবহানের। এরপর আজ ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন তাঁরা। ফাইজারের পাশাপাশি নমুনা নেওয়া হয় তার ফুপি উম্মে কুলসুমেরও। 

২০১৩ সাল থেকে আইসিডি দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন আবদুস সোবহান। আড়াই বছর আগে ইস্ফাহান সুলতানাকে বিয়ে করেন বাঁশখালীর নাপোড়ার সোবহান। 

স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা বলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইস্ফাহান সুলতানা বলেন, ‘শনিবার রাতে ভিডিও কলে সে আগুনের ঘটনা দেখাচ্ছিল আমাকে। আমি তাঁকে বারবার বলছিলাম দূরে সরে যেতে। সে বলছিল নিরাপদ দূরত্বেই আছে। কিন্তু ভিডিওকলে কথা চলতে চলতেই হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেমে যায় কথা। বন্ধ হয়ে যায় ফোনও। তারপর আর খোঁজ পাইনি স্বামীর।’ 

ইস্ফাহান সুলতানা আরও বলেন, ‘স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে চমেক হাসপাতালে আসি। সেখানেও তাঁর কোনো খোঁজ পাইনি। এখন নমুনা দিতে এলাম।’ 

শুধু সোবহান নয়, আজ বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের নিহত ও নিখোঁজদের শনাক্ত করতে আজ সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নমুনা নেওয়ার কাজ শুরু করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। 

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ সম্পর্কিত সবশেষ খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুন

এ সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিআইডি) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো যাদের মরদেহ পরিবার পায়নি তাদের পরিবারের দুজনের কাছ থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে।’

এই সম্পর্কিত সর্বশেষ:

বউভাতে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কনের নানি নিহত

৯ জুলাই যোদ্ধা চাকরি পেলেন চট্টগ্রাম বন্দরে

১০ বছর পর দম্পতির কোলজুড়ে একসঙ্গে পাঁচ সন্তান

‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন’

টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়, মাথার খুলির এক পাশ খুলে রাখা হয়েছে

মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনমেলা

চট্টগ্রামে নালা থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

সড়ক থেকে উদ্ধার সেই শিশু দাদির জিম্মায়, বাবা কারাগারে

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি: টেকনাফের গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে