হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চন্দনাইশে ত্রাণের হাহাকার: চেয়ারম্যানদের বরাদ্দ নিয়ে গেলেন এমপি

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

চন্দনাইশে বন্যার পানি বাড়ছে কিছু এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমতে শুরু করলেও অন্য কিছু এলাকায় বাড়ছে। এই অবস্থায় দুর্গতরা ত্রাণের অপেক্ষায় থাকলেও পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে চন্দনাইশ পৌরসভাসহ অন্তত ৬টি ইউনিয়নে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি। অথচ প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ সরকারি সাড়ে ৪ টন চাল ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন এমপি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ গত শনিবার থেকে ধোপাছড়ি ও সাতকানিয়া নির্বাচনী এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন। নিজের উপস্থিতিতে ৩০ হাজার পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। এসব এলাকায় যাওয়ার পথে হাশিমপুর বড় পাড়া এলাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং দোহাজারী পৌরসভার রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছু ত্রাণ দেন। তবে চন্দনাইশে এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কোনো ত্রাণ বিতরণ এখনো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা ও হকার মানিক বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। পৌরসভা কিংবা সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি। দুই দিন আগে উপজেলা প্রশাসনের একটি শুকনা খাবারের প্যাকেট আনতে প্রায় এক কিলোমিটার কোমরপানি পেরিয়ে যেতে হয়েছে। প্যাকেটে ছিল আধা কেজি মুড়ি, আধা কেজি চিড়া, গুড়, টোস্ট বিস্কুট, দেশলাই ও মোমবাতি। খুব কষ্টে দিন কাটছে। আমাদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি পানিতে ডুবে থাকলেও বন্যার্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহযোগিতা খুবই সামান্য।’

সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের কাঠমিস্ত্রি আশিস বলেন, ‘আমরা টানা আট দিন ধরে পানিবন্দী। এখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো ত্রাণসামগ্রী পাইনি।’

সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন জানান, তাঁদের ইউনিয়নের জন্য সাড়ে ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১ টন চাল বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সাড়ে ৩ টন নিজ খরচে প্যাকেট করা হয় এবং সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন ফোন দিয়ে পাঠিয়ে দিতে বললে সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এমপি এই চালগুলো তাঁর ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে দেবেন বলেছেন। কিন্তু আমার জানা মতে, আজ সোমবার পর্যন্ত এমপি সাহেবের কোনো ত্রাণ সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নে ঢোকেনি।’

কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল হাকীম রানা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ করা সাড়ে ৪ টন চাল গত শুক্রবার এনে প্যাকেট করা হয়। শনিবার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ ফোন করে চালগুলো র‍্যাডিসন কমিউনিটি সেন্টারে পাঠিয়ে দিতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাঠায় দিছি। এখনো পর্যন্ত এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ আমার ইউনিয়নে দিছে কি না জানা নাই।’

একই বক্তব্য জোয়ারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রহিমা বেগমের। তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ করা চাল পাঠিয়ে দেওয়ার পর আমি আর কিছু জানি না এবং আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমার ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৬, ৭ নং ওয়ার্ড বন্যাকবলিত হয়েছে। আজ সোমবার পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি কোনো ত্রাণ দিতে শুনিনি।’

বৈলতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম সায়েম, বরকল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিলীপ ভট্টাচার্যও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ করা চাল এমপির কাছে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের এলাকার মানুষই বঞ্চিত আর অভুক্ত থাকল।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যায় উপজেলা ও পৌরসভার প্রত্যন্ত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমেছে এবং কিছু কিছু এলাকায় এখনো পানি আছে। শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ করা চাল এমপি মহোদয় নিয়ে গেছেন। এই চালসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তিনি প্যাকেট করে বন্যাকবলিত এলাকায় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এমপির সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গাছির মৃত্যু

চট্টগ্রামে টানা ৮ দিন ১,৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরিয়ে দেখা মিলল রোদের

জাবেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলা, ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

চট্টগ্রামে থানার কাছেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, ৩৫ লাখ টাকা লুট

সাত দিন পর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আমদানি পণ্য খালাস শুরু

আমরা প্রত্যেক দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই: প্রতিমন্ত্রী অমিত

শাহ আমানতে ২ কেজি সোনা উদ্ধার

দুবাইফেরত যাত্রীর পায়জামার বেল্টে মিলল সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা

সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

চট্টগ্রামে বিপিসির দপ্তর: পানি ঢুকছে ৬০ কোটির ভবনে