হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

জঙ্গল সলিমপুর: ‘জনবিস্ফোরণ’-এর হুঁশিয়ারি র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন ইয়াসিন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এখন এক উত্তপ্ত জনপদ। র‍্যাব কর্মকর্তা নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ্যেই প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ঝামেলা করলে বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৯ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে বসে ইয়াসিন দাবি করছেন, অভিযানের নামে এলাকায় ঢালাওভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘কাউকে ধরতে হলে অভিযানের আগে আসামির নাম-ঠিকানা জানাতে হবে। এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।’

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ইয়াসিন বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা তাঁদের কেনা সম্পত্তি। সেখান থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করার ক্ষমতা কারও নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে একজন জেলা প্রশাসক উচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজেই এখন ‘উধাও’ হয়ে গেছে! বক্তব্যে তিনি জঙ্গল সলিমপুরে গত সোমবার পরিচালিত র‍্যাবের অভিযানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং র‍্যাব সদস্যরা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করার দাবি জানান।

গত সোমবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরে একটি অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন র‍্যাব-৭-এর সদস্যরা। সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের আটক করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এবং চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এই হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে নিহত হন র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। গত বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ইয়াসিনের এই হুমকির বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইয়াসিন আলীনগরের কার্যালয়ে বসে এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁকে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

অন্যদিকে, র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযানে কোনো কৌশলগত ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর এখন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। চার দশক ধরে পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এখানে চলে পাহাড় দখল ও প্লট-বাণিজ্য। ইয়াসিন ও রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ এই এলাকাটি সশস্ত্র পাহারায় রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসেও এখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হন এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন।

বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি গোলাম আকবরের আহ্বান

বোয়ালখালীতে শিকলে বেঁধে রিকশাচালককে নির্যাতন, উদ্ধার করল পুলিশ

কুমিল্লায় নির্বাচনের মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

চাঁদপুরে ট্রাকচাপায় শিশু নিহত

এবার আমরা সরকার গঠন করব: জামায়াত নেতা ডা. তাহের

ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা শিশুসহ ৭ রোহিঙ্গা আটক

চট্টগ্রামে সুন্নিজোট প্রার্থীর গাড়িতে হামলা

সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের কবর জিয়ারত করলেন বিএনপি নেতারা

মতলব উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাসান বেনুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার